সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

তেহরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র:

সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মাঠে আইআরজিসি

ডেস্ক রিপোর্ট | আন্তর্জাতিক | প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৯

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সতর্কতায় নিয়ে গেছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর সময়কার নিরাপত্তা ব্যবস্থার চেয়েও এবার সতর্কতা আরও কঠোর করা হয়েছে।

সম্ভাব্য বহিরাগত হুমকি মোকাবিলায় ইরানের ভূগর্ভস্থ তথাকথিত ‘মিসাইল সিটি’গুলো সক্রিয় করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বি-৫২ বোমারু বিমান আকাশে উড়লেও আয়াতুল্লাহ খামেনি তেহরান ছাড়বেন না। অন্য একটি সূত্রের দাবি, সেনাবাহিনী বা পুলিশের তুলনায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর ওপরই বেশি ভরসা করছেন তিনি।

খামেনির ধারণা, আইআরজিসির ভেতরে বিদ্রোহের ঝুঁকি প্রায় নেই। তবে অতীতে অন্যান্য বাহিনীতে ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। বাস্তবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই আইআরজিসির ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছেন তিনি।ৃ

দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, শুধু শুক্রবারই দেশজুড়ে অন্তত ২ হাজার ২৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ১৬৬ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ৪৮ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রয়েছেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কড়া বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে।

ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান এখন ‘বড় বিপদের’ মুখে রয়েছে এবং পরিস্থিতি এমন দিকে যাচ্ছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কেউ কল্পনা করেনি।

এর মধ্যেই নির্বাসিত ইরানি যুবরাজ রেজা পাহলভি দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট ও শহর দখলের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বিক্ষোভকারীদের সাহস ও দৃঢ়তার প্রশংসা করেন।

তিনি বিশেষ করে পরিবহন, তেল, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের জাতীয় ধর্মঘটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

পাহলভি জনগণকে শনিবার ও রবিবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে জাতীয় পতাকা ও প্রতীক হাতে রাস্তায় নামার অনুরোধ জানান। তার ভাষায়, লক্ষ্য শুধু বিক্ষোভ নয়—বরং শহরের কেন্দ্রগুলো দখল করে ধরে রাখা।

একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে সরকারবিরোধী সহযোগীদের দমনযন্ত্র আরও দুর্বল করার আহ্বান জানান তিনি। ভিডিও বার্তার শেষাংশে পাহলভি জানান, বিজয়ের মুহূর্তে জনগণের পাশে থাকতে তিনি নিজেও দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে টাইম ম্যাগাজিন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার তেহরানে বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত ২১৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই সরাসরি গুলিতে প্রাণ হারান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

একই রাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে ইরানি যুদ্ধজাহাজ রাশিয়া ও চীনের নৌবাহিনীর সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top