বর্তমানে পরিস্থিতি “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে” রয়েছে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভকে সহিংস ও রক্তাক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করতে চাইছেন। তিনি বলেন, গত সপ্তাহান্তে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়লেও বর্তমানে পরিস্থিতি “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে” রয়েছে।
আরাঘচির দাবি, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থাকা ‘সন্ত্রাসীরা’ ট্রাম্পের হুমকিতে উসকানি দিয়ে সহিংসতা বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, সংলাপের জন্যও প্রস্তুত।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অস্ত্র বিতরণের ভিডিওপ্রমাণ পেয়েছে। শিগগিরই আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তি প্রকাশ করা হবে। এছাড়া বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ীদের “খুঁজে বের করার” নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চলমান দেশজুড়ে ইন্টারনেট চারদিন ধরে বন্ধ রয়েছে; আরাঘচি জানিয়েছেন, শিগগিরই ইন্টারনেট ও সরকারি দপ্তরগুলোর সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হবে।
একই সময়ে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রোববার জানান, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিয়ে “খুব শক্ত কিছু অপশন” বিবেচনা করছে, যার মধ্যে সামরিক পদক্ষেপও থাকতে পারে।
ইরানি সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্বালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ভুল করলে ইরান ইসরায়েলসহ ওয়াশিংটনের সব ঘাঁটি বৈধ হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “অহংকারী শাসকরা যেমন পতন হয়েছে, ট্রাম্পকেও সেই একই পরিণতি দেখতে হবে।”
টানা তিন সপ্তাহ ধরে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ চলতে থাকায় সরকার নিহতদের ‘শহিদ’ ঘোষণা করে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ১০৯ জন নিহত হয়েছেন; বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর সংখ্যা সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রবাসী ইরানি কর্মীরা কয়েকশ’ হতাহতের কথা জানিয়েছে।
দেশজুড়ে উত্তেজনার মধ্যেও বিভিন্ন শহরে বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। ইরান মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত, কারণ এটি হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয়।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।