ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের কনডম শিল্পে সংকট, বাড়তে পারে দাম
আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪২
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবার ভারতের পরিবার পরিকল্পনা ও জনস্বাস্থ্য খাতে পড়তে শুরু করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে দেশটির প্রায় ৮ হাজার ১৭০ কোটি রুপির কনডম শিল্প এখন তীব্র সরবরাহ সংকটে রয়েছে। এর ফলে বাজারে কনডমের ঘাটতি দেখা দেওয়ার পাশাপাশি খুচরা পর্যায়ে দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতে বছরে প্রায় ৪৫০ কোটি কনডম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে কাঁচামালের মারাত্মক সংকটে ভুগছে। এই তালিকায় রয়েছে এইচএলএল লাইফকেয়ার, ম্যানকাইন্ড ফার্মা ও কিউপিড লিমিটেডসহ শীর্ষ কোম্পানিগুলো। মূলত লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরে নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
কনডম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সিলিকন অয়েল ও অ্যামোনিয়ার সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কাঁচা ল্যাটেক্স সংরক্ষণে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ইতোমধ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি প্যাকেজিংয়ের জন্য ব্যবহৃত পিভিসি ও অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের দামও বেড়ে গেছে।
উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, লজিস্টিক জটিলতার কারণে কাঁচামাল সময়মতো পৌঁছাচ্ছে না, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং খরচ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। গত ১১ মার্চের এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ পেট্রোকেমিক্যাল খাতে সম্পদ বরাদ্দ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়, যা শিল্পটিকে আরও চাপে ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে জনস্বাস্থ্যে। ভারতের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য পরিবার পরিকল্পনা ও যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধে কনডম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। সরবরাহ ঘাটতি বা দাম বৃদ্ধি পেলে এর ব্যবহার কমে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াবে।
ইতোমধ্যে দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরগুলোর বিভিন্ন ফার্মেসিতে কনডমের সরবরাহে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।