শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২

ইরান সংকটে কূটনৈতিক তৎপরতা: পাকিস্তান সক্রিয়, ভারত কি পিছিয়ে?

আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৪

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়েও দেশটির ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—নয়াদিল্লি কি কৌশলগতভাবে পিছিয়ে পড়ছে?

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয় ইসলামাবাদ। জানা গেছে, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের একটি ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দেয় এবং আলোচনার প্রস্তাবও রাখে। যদিও তেহরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরপর চীনের সমর্থন পেতে বেইজিং সফর করেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নতুন একটি পাঁচ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

পাকিস্তানের এই তৎপরতা ভারতের কৌশলগত মহলে অস্বস্তি তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক থাকায় নয়াদিল্লিও মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারত। এদিকে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস একে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

তবে অন্য বিশ্লেষকদের মতে, আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ছাড়া এ ধরনের মধ্যস্থতা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাদের দাবি, নীরব কূটনীতি ও কৌশলগত দূরত্ব বজায় রাখাই ভারতের জন্য অধিক কার্যকর পন্থা।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাকিস্তানের এই ভূমিকাকে ‘দালালি’ হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ভারতকে মধ্যস্থতার জন্য অন্যদের কাছে যেতে হয় না এবং দেশটি নিজের কূটনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে সচেতন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক কেবল কৌশলগত নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে—পাকিস্তান যদি পারে, তাহলে ভারত কেন পারবে না।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নাও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস থাকায় ইসলামাবাদের স্থায়ী ভূমিকা পাওয়া কঠিন হতে পারে।

সাবেক কূটনীতিকদের মতে, ভারতের উচিত নিজের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখে কৌশল নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকাও ঠিক নয়, কারণ এই সংঘাত ভারতের স্বার্থেও প্রভাব ফেলছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তাদের এই পরিস্থিতিতে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, এটি কৌশলগত প্রদর্শনের চেয়ে আঞ্চলিক ঝুঁকি মোকাবিলার একটি বাধ্যতামূলক উদ্যোগ।

সব মিলিয়ে, ইরান সংকটকে ঘিরে পাকিস্তানের সক্রিয়তা যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top