ইরান যুদ্ধে নিহত সর্বকনিষ্ঠ কুর্দি নারী যোদ্ধা গজল মোলান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৫৮
উত্তর ইরাকে ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৯ বছর বয়সী কুর্দি নারী যোদ্ধা গজল মোলান চাপারাবাদ। তিনি কুর্দি পেশমার্গা বাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ নারী যোদ্ধাদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সম্প্রতি তার বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির সপ্তম দিনে উত্তর ইরাকের সুরদাশ এলাকার একটি আবাসিক স্থানে ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই এলাকায় ইরানবিরোধী একটি কুর্দি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো বসবাস করছিল। হামলায় গজল গুরুতর আহত হন। পরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিবৃতিতে তাকে ‘শহীদ’ উল্লেখ করে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
হামলার পর প্রকাশিত কিছু ছবিতে ব্যবহৃত ড্রোনে একটি বার্তা লেখা ছিল বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায় স্বীকার করেনি।
গজলের মৃত্যুকে ঘিরে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় সুবিধা না থাকায় অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু পরবর্তী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর পরিচয় জানার পর আইনি জটিলতার আশঙ্কায় ভর্তি নিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সহযোদ্ধা ও মানবাধিকারকর্মীদের দাবি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় তার অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে অন্য একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হলে ততক্ষণে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
মৃত্যুর পরও গজলের মরদেহ গ্রহণে অনীহা দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে তার বন্ধু ও হবু স্বামী মিলে একটি স্থানে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।
দাফনের সময় পরিস্থিতি ছিল আতঙ্কজনক। একই দিনে কাছাকাছি একটি কবরস্থানে হামলার খবর থাকায় সীমিত পরিসরে দ্রুততার সঙ্গে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, অল্প বয়সে সংগ্রামের পথ বেছে নেওয়া গজলের জীবন সাহসিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।