বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

ইরান ইস্যুতে যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৮

সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত তাদের পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত রাখবে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে অবরোধ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন এবং জানান, ইরান প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত ও আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে।

এদিকে ইরান এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরানের অবস্থান পরে জানানো হবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেও ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন।

তবে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি জটিল রয়ে গেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই অবরোধকে যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে একে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি সমর্থন সীমিত করার দাবি জানাচ্ছে। তবে তেহরান তাদের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অধিকার থেকে সরে আসতে নারাজ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি মূলত কূটনৈতিক চাপ মোকাবিলার একটি কৌশল হতে পারে। স্টিমসন সেন্টারের বিশ্লেষক বারবারা স্লাভিন মনে করেন, প্রত্যাশামতো পরিস্থিতি এগোয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।

সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হলেও হরমুজ প্রণালি-সহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতবিরোধ রয়ে গেছে। ফলে সংকট পুরোপুরি কাটেনি। এখন নজর সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার দিকে, যেখানে নির্ধারিত হতে পারে পরবর্তী পথ।

 

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top