বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

নির্বাচনে জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিজেপির তাণ্ডব, হামলা ও ভাঙচুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ মে ২০২৬, ১১:১৯

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে একাধিক জেলায় ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, বীরভূম, নদীয়া, হাওড়া, বাঁকুড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় খুন, হামলা, ভাঙচুর এবং দলীয় কার্যালয় দখলের অভিযোগে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী বিজেপি একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে।

বীরভূম জেলার নানুরে ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় আবির শেখ নামের এক তৃণমূল কর্মী নিহত হয়েছেন। পরিবারের দাবি, তাকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা এলাকার চম্পাহাটিতে একটি পঞ্চায়েত কার্যালয় ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ উঠেছে, এক পক্ষ কার্যালয়ে দলীয় পতাকা টাঙিয়ে প্রবেশপথ বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেয়। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে অন্য পক্ষ।

শিলিগুড়ির তেত্রিশ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলা হয় এবং দলীয় পতাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিরোধী পক্ষ।

বারুইপুরের ফুলতলা এলাকায়ও দলীয় কার্যালয় ঘিরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার পর সেখানে ভিন্ন দলের পতাকা টাঙানো হয়।

নদীয়ার কৃষ্ণনগরের বাদকুল্লা মোড়ে একটি দলীয় কার্যালয় দখল, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শাসক দলের দাবি, বিরোধী সমর্থকরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে বিরোধী পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

হাওড়ার উদয়নপুর এলাকায় এক বিরোধী সমর্থকের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, তাকে অপহরণ করে মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কুলতলির একটি এলাকায় বিরোধী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাতে বাড়ি ফেরার পথে তাদের আটকে লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় শাসক দলের কর্মীদের দায়ী করা হয়েছে।

অন্যদিকে বাঁকুড়ার একাধিক এলাকায় শাসক দলের কার্যালয় দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন স্থানে কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে দলীয় পতাকা সরিয়ে নিজেদের পতাকা টাঙানোর অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদের কক্ষ দখল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে সম্প্রতি ভারতের আসাম রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারের সময় এক রাজনৈতিক দল একটি পথনাটক প্রদর্শন করে, যেখানে একটি মুসলিম পরিবারের জীবনচিত্র তুলে ধরা হয়। নাটকে দেখানো হয়, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সরকার পরিবর্তনের পর তাদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হচ্ছে এবং তারা চরম অসহায় অবস্থায় পড়ছে। এই নাটক প্রদর্শনের সময় উপস্থিত দর্শকদের একাংশ হাসি ও করতালিতে প্রতিক্রিয়া জানায় বলে জানা গেছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top