ঘোষণা করা হলো ২০২৬ সালের পুলিৎজার বিজয়ীদের নাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ মে ২০২৬, ১৫:১২
বিশ্ব সাংবাদিকতার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সম্মান পুলিৎজার পুরস্কারের ২০২৬ সালের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা আসে। এবারের আয়োজনে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতে অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণধর্মী সাংবাদিকতাকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এ বছর একাধিক বিভাগে দাপট দেখিয়েছে রয়টার্স, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
জাতীয় প্রতিবেদন বিভাগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার ব্যবহার ও প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করে রয়টার্স পুরস্কার অর্জন করেছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধানের জন্য বিট রিপোর্টিং বিভাগেও তারা স্বীকৃতি পেয়েছে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে নিউইয়র্ক টাইমস। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠদের ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে লাভবান হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তারা এই বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। মতামত বিভাগেও প্রতিষ্ঠানটির এম গেসেন সম্মাননা অর্জন করেছেন।
এদিকে গাজায় চলমান যুদ্ধের হৃদয়বিদারক চিত্র তুলে ধরে ব্রেকিং নিউজ আলোকচিত্র বিভাগে পুরস্কার জিতেছেন একই প্রতিষ্ঠানের আলোকচিত্রী সাহের আলগোররা।
জনসেবা বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্কার ও তার প্রভাব নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য তারা এই সম্মান অর্জন করে। পাশাপাশি ফিচার আলোকচিত্র বিভাগে আবেগঘন ছবি-গল্পের জন্য প্রতিষ্ঠানটির জাহি চিকওয়েন্দিউ পুরস্কৃত হয়েছেন।
ব্রেকিং নিউজ প্রতিবেদনে মিনেসোটা স্টার ট্রিবিউনের সাংবাদিকরা একটি স্কুলে গুলিবর্ষণের সংবেদনশীল কভারেজের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন। ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনে সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের তিন সাংবাদিক বীমা কোম্পানির অনিয়ম উন্মোচন করে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
স্থানীয় সাংবাদিকতায় এ বছর দুটি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি পেয়েছে কানেকটিকাট মিরর ও প্রোপাবলিকার সাংবাদিকরা, যারা গাড়ি টোয়িং সংক্রান্ত আইন নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছেন। অন্যটি পেয়েছে শিকাগো ট্রিবিউনের সাংবাদিকরা, যারা অভিবাসন অভিযান নিয়ে শক্তিশালী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বৈশ্বিক নজরদারি প্রযুক্তি নিয়ে অনুসন্ধানী কাজের জন্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকরা পুরস্কৃত হয়েছেন। ফিচার রচনায় টেক্সাস মান্থলির অ্যারন পার্সলি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা বন্যার করুণ কাহিনির জন্য সম্মাননা পেয়েছেন।
সমালোচনা বিভাগে ডালাস মর্নিং নিউজের মার্ক ল্যামস্টার এবং চিত্রভিত্তিক প্রতিবেদন ও মন্তব্য বিভাগে ব্লুমবার্গের সাংবাদিকরা পুরস্কার জিতেছেন। অডিও প্রতিবেদনে ‘পাবলো টরে ফাইন্ডস আউট’ অনুষ্ঠান দলও স্বীকৃতি পেয়েছে।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, নাটক ও সংগীতেও বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। কথাসাহিত্যে ড্যানিয়েল ক্রাউস তার ‘অ্যাঞ্জেল ডাউন’ গ্রন্থের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন।
নাটকে ‘লিবারেশন’-এর জন্য বেস ওহল, ইতিহাসে ‘উই দ্য পিপল: এ হিস্ট্রি অব দ্য ইউএস কনস্টিটিউশন’-এর জন্য জিল লেপোর, জীবনীতে ‘প্রাইড অ্যান্ড প্লেজার: দ্য স্কাইলার সিস্টার্স ইন এন এজ অব রেভোলিউশন’-এর জন্য আমান্ডা ভাইল এবং আত্মজীবনীতে ‘থিংস ইন নেচার মেয়ারলি গ্রো’-এর জন্য ইয়িয়ুন লি পুরস্কৃত হয়েছেন।
কবিতায় ‘আরস পোয়েটিকাস’-এর জন্য জুলিয়ানা স্পার, সাধারণ অ-কাল্পনিক সাহিত্যে ‘দেয়ার ইজ নো প্লেস ফর আস: ওয়ার্কিং অ্যান্ড হোমলেস ইন আমেরিকা’-এর জন্য ব্রায়ান গোল্ডস্টোন এবং সংগীতে ‘পিকাফ্লোর: এ ফিউচার মিথ’-এর জন্য গ্যাব্রিয়েলা লেনা ফ্রাঙ্ক সম্মাননা পেয়েছেন। সাংবাদিকতায় দীর্ঘ অবদানের জন্য জুলি কে. ব্রাউনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
১৯১৭ সাল থেকে প্রবর্তিত পুলিৎজার পুরস্কারকে সাংবাদিকতার ‘নোবেল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবারের আয়োজনেও বৈশ্বিক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে সাহসী, গভীর ও প্রভাবশালী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি উঠে এসেছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।