তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু, তদন্তে জানা গেল মৃত্যুর কারণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ মে ২০২৬, ১২:৪৯
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। শুরুতে ধারণা করা হলেও তরমুজ খেয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়নি; বরং বিষাক্ত পদার্থের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ময়নাতদন্ত ও পরীক্ষাগার বিশ্লেষণে মৃতদের দেহ এবং তারা যে ফল খেয়েছিল তার নমুনায় ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহৃত এক ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মৃত্যুর কয়েক দিন আগে করা পরীক্ষায় দেখা যায়, মৃতদের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সবুজ রঙের আভা দেখা গেছে, যা সাধারণত বিষক্রিয়ার লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ঘটনাটি ঘটে মুম্বাইয়ের একটি বাড়িতে। সেখানে ৪৫ বছর বয়সী আবদুল্লাহ দোকাদিয়া ও তার ৩৫ বছর বয়সী স্ত্রী নাসরিন পরিবারের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে তাদের দুই মেয়ে ১৩ বছর বয়সী জয়নাব ও ১৬ বছর বয়সী আয়েশাও উপস্থিত ছিল। অতিথিদের জন্য খাসির পোলাও রান্না করা হয়েছিল।
অতিথিরা চলে যাওয়ার পর রাত আনুমানিক একটার দিকে পরিবারটি তরমুজ খায়। এরপর ভোর পাঁচটার দিকে তাদের সবাই তীব্র বমি ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চারজনের মৃত্যু হয়।
পরীক্ষায় জানা গেছে, তাদের শরীরে এক ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক পাওয়া গেছে, যা সাধারণত ইঁদুর মারার কাজে ব্যবহৃত হয়। একই রাসায়নিক তরমুজের নমুনাতেও পাওয়া গেছে। এটি কীভাবে ফলের মধ্যে প্রবেশ করল, তা দুর্ঘটনাবশত নাকি পরিকল্পিতভাবে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
এছাড়া আবদুল্লাহ দোকাদিয়ার শরীরে শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ মরফিনের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে। এটি তার শরীরে কীভাবে এলো, তিনি আগে কোনো চিকিৎসায় ছিলেন কি না, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করেছে। নৈশভোজে উপস্থিত অতিথিদের জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছে। তবে তারা সবাই সুস্থ আছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অতিথিরা কেবল পোলাও খেয়েছিলেন, তরমুজ খাননি। সূত্র: এনডিটিভি।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।