মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

রমজানে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়

ধর্ম ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬, ১৪:০৮

সংগৃহীত

মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়। তিনি সবসময় বান্দার জন্য তাঁর দরজা উন্মুক্ত রাখেন। মানুষ যখনই আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর কাছে দোয়া করে, আল্লাহ তা শোনেন এবং সাড়া দেন। যারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, তিনি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাদের ডাকে সাড়া দেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” (সুরা মুমিন: ৬০)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে চায় না, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হন।” (তিরমিজি: ৩৩১৯)।

বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে এমন কিছু সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া আল্লাহ তায়ালা ফিরিয়ে দেন না। এসব মুহূর্তে বেশি বেশি দোয়া ও ইবাদত করার প্রতি ইসলাম বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছে।

রাতের শেষ তৃতীয়াংশ

রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অত্যন্ত বরকতময় সময়। সাধারণত এ সময় মানুষ গভীর ঘুমে থাকে। তবে রমজান মাসে সেহরির কারণে অনেকেই এ সময় জেগে ওঠেন। এই সময়টি আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলোর একটি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের প্রতিপালক পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করে বলেন— কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব; কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব; কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৪৫)

ইফতারের পূর্ব মুহূর্ত

ইফতারের আগের সময়টিও দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর এ সময় বান্দা যখন আল্লাহর কাছে দোয়া করে, তা বিশেষভাবে কবুল হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না— ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যখন সে ইফতার করে এবং অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৭৫২)

আরেক হাদিসে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক ইফতারের সময় বহু মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং এটি প্রতি রাতেই ঘটে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬৪৩)

তাই ইফতারের আগে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বেশি বেশি দোয়া ও ইসতিগফার করা উচিত।

ফজরের পর

রমজানে দোয়া কবুলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো ফজরের পরের মুহূর্তগুলো। অনেক মানুষ এই সময় ইবাদত ও দোয়ার ব্যাপারে উদাসীন থাকে, অথচ এটি অত্যন্ত মূল্যবান সময়।

হযরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কোন সময় দোয়া দ্রুত কবুল হয়। তিনি বলেন, রাতের শেষ প্রহর এবং ফজরের পর। (সুনানে তিরমিজি: ৩৪৯৮)

রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। তাই এই বরকতময় সময়ে উল্লেখিত মুহূর্তগুলোকে কাজে লাগিয়ে বেশি বেশি দোয়া, ইবাদত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top