ঈদের ছুটিতে বেড়াতে যাচ্ছেন? এই ৫টি বিষয় আপনার পরিকল্পনা সহজ করবে
সামাজিক কথন ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১১
ঈদ উপলক্ষে অনেকেই ভ্রমণের পরিকল্পনা সেরে ফেলেছেন, আবার কেউ কেউ এখনো করছেন। শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা করলে খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি বেড়ে যায় ভোগান্তি। তাই এখনই প্রস্তুতি শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ। ভ্রমণের পরিকল্পনা সহজ করতে সাহায্য করবে এই পাঁচটি বিষয়:
১. দেশ নাকি বিদেশ
আগেই ঠিক করুন কোথায় ঘুরতে যাবেন—দেশে না বিদেশে। দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ওই সময়ের আবহাওয়া বিবেচনায় নিয়ে গন্তব্য বাছাই করা জরুরি। মার্চের শেষ দিকে চৈত্রের শুরু, তখন গরম পড়তে শুরু করে। তুলনামূলক স্বস্তি দিতে পারে সিলেট অঞ্চল বা উত্তরাঞ্চল।
বিদেশে গেলে আগে যাচাই করুন সংশ্লিষ্ট দেশে ভিসার প্রয়োজন আছে কি না। লাগলে কত সময় লাগবে, সেটিও বিবেচনায় রাখুন। পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু নাকি একা ভ্রমণ করবেন, সেটিও গন্তব্য বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২. বাজেট করুন
ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাজেট একটি বড় বিষয়। ঈদের কেনাকাটার কারণে ভ্রমণের বাজেট কমে যেতে পারে। তাই শুরুতেই মোট বাজেট নির্ধারণ করুন। যাতায়াতের খরচ—ফ্লাইট, বাস বা ট্রেনের খরচ হিসাব করুন।, থাকার ব্যবস্থা, খাবার, ঘোরাঘুরি এবং কেনাকাটাসহ জরুরি খরচ বিবেচনা করুন।, ঈদের সময় দেশে সবকিছুর দাম বাড়ে, তাই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ১০–১৫% অতিরিক্ত অর্থ ধরে রাখাই নিরাপদ।
৩. যাতায়াত ও হোটেল
বিদেশে কয়েক মাস আগে পরিকল্পনা করলে বিমানের টিকিট ছাড়াও হোটেল ভাড়া এবং বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রম তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। সময় যত ঘনিয়ে আসে, চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও বাড়ে।
দেশে ঈদের সময় পাহাড়, সমুদ্র কিংবা সমতল—সব জায়গাতেই পর্যটকের ভিড় থাকে। তাই হোটেল বা রিসোর্ট আগে থেকেই বুক করা জরুরি। রোজায় অনেক রিসোর্ট বিশেষ ছাড় দেয়, সে সময় বুকিং করলে খরচ কিছুটা কমানো যায়। যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাস বা ট্রেনের টিকিটও আগেভাগে নেওয়া ভালো।
৪. বিদেশে গেলে ভিসা
নেপাল, ভুটান বা মালদ্বীপে বাংলাদেশিরা আগাম ভিসার প্রয়োজন হয় না। শ্রীলঙ্কার জন্য ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) বাধ্যতামূলক হলেও দুই–তিন দিন আগে আবেদন করলেই সাধারণত অনুমোদন পাওয়া যায়। থাইল্যান্ডের ভিসাতেও জটিলতা কমে এসেছে।
বিদেশ ভ্রমণের সময় দেশের ভিসা নীতিমালা আগে থেকে জেনে নিন। মার্চের আগে ভিসা চাইলে এখনই আবেদন করা ভালো। ভিসা আবেদনের সময় পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে। এছাড়া বিমানের টিকিট, হোটেল বুকিং ও প্রয়োজনীয় নথির সফট কপি সংরক্ষণ করলে ভ্রমণের সময় ঝামেলা কমে।
৫. বিকল্প পরিকল্পনা রাখুন
ঈদের ভ্রমণে ভিড় একটি বড় বাস্তবতা। ছুটির শুরু হওয়ার এক–দুই দিন আগে বা পরে যাত্রা করলে চাপ কিছুটা কমে। ঈদের দিনে যাত্রার বদলে গন্তব্যে থাকাই স্বস্তিকর।
ফিরতি যাত্রার ক্ষেত্রেও ছুটি শেষের একদিন আগে রওনা হলে ভোগান্তি কম হয়। এছাড়া আবহাওয়াজনিত সমস্যা বা বুকিং বাতিল হলে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা জরুরি। পরিবার নিয়ে গেলে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়েও আগাম প্রস্তুতি থাকা ভালো।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।