সিলেটে খাসিয়া জনপদে কমিউনিটি ট্যুরিজম:
জাফলংয়ে নতুন অভিজ্ঞতার দোরগোড়ায় পর্যটকরা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৫২
সিলেট: পাহাড় ও ঝরনার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, স্বচ্ছ জলের পাথুরে পিয়াইন নদ আর খাসিয়া জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির সাথে মিলিয়ে জাফলংয়ের নতুন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছে খাসিয়া জনপদ। পর্যটকেরা এখন শুধু জাফলং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ঘুরে ফিরে যাচ্ছেন না, চাইলে রাতও কাটাতে পারেন খাসিয়াদের বাড়িতে।
গত বছরের জুলাই থেকে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) যৌথ উদ্যোগে চালু হয়েছে ‘কমিউনিটি ট্যুরিজম’। এই উদ্যোগে খাসিয়াপুঞ্জির তিনটি পাড়া বা পুঞ্জিতে বর্তমানে চারটি হোমস্টে চালু রয়েছে। প্রতিটি হোমস্টেতে অন্তত ১৫ জন পর্যটক রাত যাপন করতে পারবেন এবং খাসিয়াদের জীবনধারা, সংস্কৃতি ও খাওয়াদাওয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।
মাস দুই আগে একটি পর্যটক দল খাসিয়াপুঞ্জির হোমস্টে অভিজ্ঞতা নিয়েছে। জাফলং জিরো পয়েন্টের বল্লার ঘাটে পৌঁছিয়ে স্থানীয় চারজন খাসিয়া তরুণ-তরুণী গাইড পর্যটকদের স্বাগত জানালেন। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পিয়াইন নদ পেরিয়ে তারা পৌঁছালেন খাসিয়া কমিউনিটি মিশনে, যেখানে একটি হোমস্টে চালু আছে।
পুঞ্জিগুলোতে ঘুরতে গিয়ে দেখা যায় খাসিয়াদের বাড়িগুলো মাটির উপরে উঁচু মাঁচার ওপর স্থাপন, ঝকঝকে পরিষ্কার ও কাঠ-বাঁশের মিশ্রণে তৈরি। স্থানীয় গাইড সেভেনলী খংস্তিয়া জানান, খাসিয়ারা স্বভাবগতভাবে পরিচ্ছন্নতায় বিশ্বাসী। প্রাচীনকাল থেকে জীবজন্তুর আক্রমণ থেকে বাঁচতে তারা উঁচু বাড়ি বানাত, যা এখন ঐতিহ্য রূপে ধরে রেখেছেন।
নকশিয়াপুঞ্জিতে হোমস্টে চালু করেছেন ওয়েলকাম লাম্বা ও তাঁর ভাই। বাড়ির দুটি কক্ষ ছিমছাম করে সাজানো হয়েছে এবং শৌচাগার-সুবিধা কিছুটা উন্নত করা হয়েছে। পর্যটকরা এখানে রাত যাপন করতে পারেন। দুপুরে মধ্যাহ্নভোজ সারতে পারা যায় রমলা রেস্টুরেন্টে, যেখানে খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী খাবার, যেমন বিন্নি চালের পোলাও, ডকলে (চিকেন সালাদ), বাঁশকোঁড়ল, কাঁঠাল-শুঁটকির তরকারি, সরওয়া (স্যুপ), চিকেন ভুনা পাওয়া যায়। খরচ পড়ে ২৫০–৩৫০ টাকা।
পর্যটকেরা লামাপুঞ্জির সেলফি জোন, সাইকেল ট্র্যাকিং এরিয়া ও জাফলং চা–বাগান ঘুরে দেখতে পারেন। সন্ধ্যায় খাসিয়া শিশুদের নৃত্য ও গান পরিবেশনা, কমিউনিটি মিউজিয়ামে ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও প্রাচীন সামগ্রী প্রদর্শন পর্যটকদের জন্য আকর্ষণ বাড়ায়। পরদিন সকালে পানচাষির সঙ্গে সরাসরি পানপাতা সংগ্রহের প্রক্রিয়া দেখা যায়। পান ও সুপারি খাসিয়াদের প্রধান আয়ের উৎস হলেও পর্যটন তাদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উপপরিচালক কাবিল মিঞা জানান, কমিউনিটি ট্যুরিজমের মাধ্যমে খাসিয়ারা বাড়তি আয় পাচ্ছেন। স্থানীয় অটোরিকশাচালক, দোকানি ও গাইডরাও এই নতুন পর্যটনের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন। যদিও বর্তমানে রাতযাপনের ব্যবস্থা সবার জন্য উন্মুক্ত নয়, তবে আগাম অনুমতি নিয়ে পর্যটকরা হোমস্টেতে রাত কাটাতে পারেন।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।