সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২

আড্ডায় নির্বাচন নিয়ে তর্কবিতর্ক এড়াতে চাইলে যা করতে পারেন

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪০

তর্ক এড়াতে চাইলে সরাসরি বিরক্তি প্রকাশ না করে বুদ্ধি খাটানছবি: এআই/

১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন এলেই আমাদের চারপাশে তর্কবিতর্ক বাড়ে, এটা খুব স্বাভাবিক। ঘরের ড্রয়িংরুম, চায়ের দোকান, অফিসের লাঞ্চ টেবিল বা পাড়ার আড্ডা—সবখানেই রাজনীতি ঢুকে পড়ে। এসব আলোচনা উপভোগ্য হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা, সম্পর্কের টানাপোড়েন বা কথা-কাটাকাটিতে গড়ায়। তাই অনেকে সচেতনভাবেই এসব তর্ক এড়িয়ে চলতে চান। কিন্তু সমস্যা হলো, আপনি না চাইলেও হঠাৎ করে কোনো আলোচনায় জড়িয়ে পড়তে পারেন। তখন কীভাবে ভদ্রভাবে, কারও মনে আঘাত না দিয়ে সেই আড্ডা থেকে বেরিয়ে আসবেন? চলুন, কয়েকটি বাস্তবসম্মত উপায় দেখে নেওয়া যাক।


রাজনৈতিক আলোচনা উপভোগ্য হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা, সম্পর্কের টানাপোড়েন বা কথা-কাটাকাটিতে গড়ায়
রাজনৈতিক আলোচনা উপভোগ্য হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা, সম্পর্কের টানাপোড়েন বা কথা-কাটাকাটিতে


১. ছোট ও নিরপেক্ষ অজুহাত কাজে লাগান
তর্ক এড়াতে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, একটি ছোট, নিরপেক্ষ অজুহাত দেখানো। এতে আপনার অবস্থান পরিষ্কার থাকে, আবার কাউকে অপমানও করা হয় না।

যা বলতে পারেন
‘একটু ফোন করা দরকার ছিল।’
‘ওই পাশটায় একজনের সঙ্গে কথা বলে আসি।’
‘চা শেষ, আরেক কাপ নিয়ে আসি।’
‘অফিসের একটা কাজ মনে পড়ল।’
তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন, যে অজুহাত দেখাচ্ছেন, সেটা অন্তত আংশিক হলেও পালন করুন। ‘চা নিয়ে আসি’ বলে পাশের টেবিলে গিয়ে আবার গল্পে বসে পড়লে বিষয়টা কৃত্রিম লাগে।

২. যাওয়ার আগে শেষ কথা বলুন
হঠাৎ উঠে পড়লে অনেক সময় অপর পক্ষ অপমানিত বোধ করতে পারে। তাই বেরিয়ে যাওয়ার আগে আলোচনাটা সুন্দরভাবে গুটিয়ে নেওয়া ভালো।

ধরুন, কেউ নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা বলছেন। আপনি বলতে পারেন—

‘আপনার কথা বুঝলাম। আসলে বিষয়টা অনেক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।’

তারপর যোগ করুন
‘একটু ঘুরে আসি, পরে আবার কথা হবে।’
এতে বোঝা যায়, আপনি কথা এড়িয়ে যাচ্ছেন না, শুধু বিরতি নিচ্ছেন।

১০ সেকেন্ডে কীভাবে একটা মানুষের ব্যক্তিত্ব বুঝতে পারবেন

৩. সঙ্গে চলার প্রস্তাব দিন
অনেক সময় আপনি কোথাও যাচ্ছেন, ঠিক তখনই কেউ রাজনৈতিক আলোচনায় জড়িয়ে ধরলেন। সে ক্ষেত্রে বিরক্ত না হয়ে বলতে পারেন—

‘চলেন, হাঁটতে হাঁটতেই কথা বলি। আমি ওই দিকে যাচ্ছিলাম।’

অনেক ক্ষেত্রে এতেই আলোচনা থেমে যায় বা বিষয় যায় বদলে। আর যদি সম্ভব না হয়, সরাসরি কিন্তু ভদ্রভাবে বলুন—

‘আমি এখন একটু ব্যস্ত, পরে কথা বলি।’


৪. শরীরী ভাষা ব্যবহার করুন
সবকিছু মুখে বলতে হয় না। আপনার শরীরী ভাষাও অনেক কিছু জানিয়ে দেয়।

ধীরে ধীরে একটু দূরে সরে দাঁড়ান।

পা বা শরীর অন্যদিকে ঘোরান।

হাসিমুখে মাথা নাড়ুন।

চোখে চোখ রেখে কথা শেষ করুন।

এসব ছোট সংকেত বুঝিয়ে দেয়, আপনি আড্ডা শেষ করতে চাইছেন।

কেউ আপনাকে অপমান করলে কী করবেন, মনোবিজ্ঞান কী বলে
৫. পারিবারিক আড্ডায় প্রশ্ন এলে
অনেক সময় আত্মীয়স্বজন সরাসরি প্রশ্ন করে বসেন, ‘তুমি কাকে ভোট দেবে’ বা ‘এই নির্বাচন নিয়ে তোমার মত কী’

এমন পরিস্থিতিতে কাজের অজুহাত ভালো কাজ করে। যেমন
‘এই কথাটা পরে বলি, একটু রান্নাঘরে দেখে আসি।’
‘বাচ্চাটাকে একটু দেখি, পরে কথা হবে।’
হালকা রসিকতা যোগ করলে পরিস্থিতি আরও হালকা হয়।

অনেক সময় আত্মীয়স্বজন সরাসরি প্রশ্ন করে বসেন, ‘তুমি কাকে ভোট দেবে’ বা ‘এই নির্বাচন নিয়ে তোমার মত কী’
অনেক সময় আত্মীয়স্বজন সরাসরি প্রশ্ন করে বসেন, ‘তুমি কাকে ভোট দেবে’ বা ‘এই নির্বাচন নিয়ে তোমার মত কী’মডেল: আনসা, সৌরভ অভি ও দোয়েল, স্থান: সঞ্চয়িতা, পোশাক: মানাস, ছবি: সুমন ইউসুফ
৬. রাগ বাড়তে থাকলে থামুন
আলোচনা যদি তর্কে গড়ায় এবং আপনি বুঝতে পারেন রাগ বাড়ছে, তখন থামাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

বলতে পারেন
‘আলোচনাটা একটু গরম হয়ে যাচ্ছে। আমরা পরে ঠান্ডা মাথায় কথা বলি।’
এতে আপনি নিজের অনুভূতির দায় নিচ্ছেন, কাউকে দোষ দিচ্ছেন না এবং পরিস্থিতিও ঠান্ডা হবে।

শেষ কথা
নির্বাচন গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, আলোচনা হবেই। কিন্তু সব আলোচনা সবার জন্য নয়। নিজের মানসিক শান্তি ও সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখাও জরুরি। তাই কোথায় থামতে হবে, কখন বেরিয়ে আসতে হবে—এসব কৌশল জানা থাকলে আড্ডা যেমন থাকবে, তেমনি তর্কও এড়ানো যাবে।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top