সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২

বার্সেলোনা ৩–২ রিয়াল মাদ্রিদ

থ্রিলারের মতো এল ক্লাসিকো, সুপার কাপ জিতল বার্সা

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৫

ছবি: সংগৃহীত

কিছু কিছু থ্রিলার সিনেমার শুরুটা হয় একদম সাদামাটা। ভেতরে ভেতরে চাপা উত্তেজনা থাকলেও জমে ওঠে শেষদিকে। জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালও যেন ঠিক তেমনই এক গল্প।

ম্যাচের প্রথম আধা ঘণ্টা খুব একটা রোমাঞ্চকর ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে জমে উঠল উত্তেজনা—আর শেষ পর্যন্ত তা রূপ নিল মরু-রোমাঞ্চে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ৩–২ গোলে হারিয়ে মৌসুমের প্রথম শিরোপা জিতে নিল বার্সেলোনা।

প্রথমার্ধ: নীরবতার পর বিস্ফোরণ

ফাইনালের শুরুতে রিয়াল মাদ্রিদের খেলায় ছিল অস্বাভাবিক রক্ষণাত্মক কৌশল। আক্রমণে তেমন আগ্রাসন দেখা যায়নি। বল দখলে পিছিয়ে থাকা দলটি মূলত প্রতি-আক্রমণের ওপর নির্ভর করছিল।

এই কৌশল লামিনে ইয়ামাল, রাফিনিয়া ও রবার্ট লেভানডফস্কির মতো আক্রমণভাগের সামনে বেশিক্ষণ টেকেনি। ৩৫ মিনিটে থিবো কোর্তোয়ার জাল ভেঙে এগিয়ে যায় বার্সা। তার এক মিনিট আগেই নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেছিলেন রাফিনিয়া, তবে পরের সুযোগেই আর ভুল করেননি তিনি।

এরপর যেন আচমকাই বদলে যায় ম্যাচের রং। প্রথমার্ধের যোগ করা তিন মিনিটে হয় তিনটি গোল—যা একবিংশ শতাব্দীর এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে নজিরবিহীন।
৪৬ মিনিটে গঞ্জালো গার্সিয়া, ৪৭ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ৪৯ মিনিটে রবার্ট লেভানডফস্কির গোলে বিরতিতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২–২। একেবারে থ্রিলার সিনেমার ‘ইন্টারভাল’।

দ্বিতীয়ার্ধ: রাফিনিয়ার শেষ কথা

বিরতির পর ম্যাচ আরও জমবে—এটা অনুমেয়ই ছিল। কিন্তু প্রত্যাশার তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে গোল হলো মাত্র একটি।

৭৩ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে নেওয়া রাফিনিয়ার শট রিয়ালের ডিফেন্ডার রাউল আসেনসিওর পায়ে লেগে দিক পাল্টায়। থিবো কোর্তোয়া বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন, আর বল জড়ায় জালে। এই গোলটাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য।

এমবাপ্পেও পারলেন না

গোল হজমের তিন মিনিট পর গঞ্জালো গার্সিয়াকে তুলে নামানো হয় কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। হাঁটুর চোট কাটিয়ে ফেরা ফরাসি তারকা চেষ্টা করলেও সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হন। বরং তাঁকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন বার্সার মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াং।

১০ জনের দল নিয়েও শেষ ১৫ মিনিটে দাপট দেখিয়েছে বার্সা। যোগ করা সময়ে রিয়াল দুটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট না করলে ফল ভিন্ন হতে পারত। আলভারো ক্যারেরাস ও রাউল আসেনসিওর শট আটকে দেন গোলকিপার হোয়ান গার্সিয়া।

ভিনির গোল, তবু হতাশা

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোল ছিল ম্যাচের অন্যতম সেরা। টানা ১৯ ম্যাচ গোলখরা কাটিয়ে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় গোল করলেও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে।

ফ্লিকের ফাইনাল জাদু

এই জয়ের মাধ্যমে বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক নিজের ফাইনাল রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করলেন। এটি তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের ১৫তম ফাইনাল—একটিতেও হারেননি। পাশাপাশি গত অক্টোবরে লা লিগায় রিয়ালের মাঠে হারের প্রতিশোধও নিল কাতালানরা।

শিরোপার ইঙ্গিত?

গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতা বলছে—যে দল সুপার কাপ জেতে, শেষ পর্যন্ত লা লিগার শিরোপাও ঘরে তোলে।

  • ২০২২: সুপার কাপ জিতে লিগ জেতে রিয়াল

  • ২০২৩: বার্সা

  • ২০২৪: রিয়াল

  • ২০২৫: বার্সা

তাহলে এবারও কি সেই ধারাই বজায় থাকবে?

বার্সার সুপার কাপ জয় যেন সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top