রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২

থাইল্যান্ডে সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান পরিবর্তনে গণভোট আজ

আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১০

থাইল্যান্ডে সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান পরিবর্তনে গণভোট আজ।  ছবি: সংগৃহীত

পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে আজ রোববার অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের ফলাফলে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে জোট সরকার গঠনই হতে পারে অনিবার্য বাস্তবতা। এবারের নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে ২০১৭ সালের সংবিধান পরিবর্তনের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

থাইল্যান্ডে সাধারণত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও এবার চার বছর আগেই ভোট হচ্ছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালে। ওই নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের চার বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সংসদ ভেঙে আগাম নির্বাচনের ডাক দেওয়া হয়।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভোটকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়, যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আগাম ভোটগ্রহণে ইতোমধ্যে ২২ লাখের বেশি ভোটার তাদের ভোট দিয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে থাইল্যান্ডে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ। ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং তীব্র জাতীয়তাবাদী আবহের মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, বাস্তবে সরকার গঠনের মতো শক্ত অবস্থানে রয়েছে মাত্র তিনটি দল, পিপলস পার্টি, ভূমজাইথাই পার্টি ফেউ থাই পার্টি

৫০০ আসনের সংসদে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না—এমন ইঙ্গিতই মিলছে বিভিন্ন জনমত জরিপে। ফলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জোট সরকার গঠনের আলোচনা প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। সংসদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন।

আল জাজিরা জানায়, নাথাফং রুয়াংপানইয়াওয়ুতের নেতৃত্বাধীন সংস্কারপন্থি পিপলস পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে। তবে দলটির সামরিক বাহিনী ও আদালতের প্রভাব কমানো এবং বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে অন্যান্য দল একজোট হয়ে তাদের ক্ষমতার বাইরে রাখার চেষ্টা করতে পারে।

পিপলস পার্টি মূলত বিলুপ্ত মুভ ফরওয়ার্ড পার্টির উত্তরসূরি। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ওই দলটি সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সামরিক-নিয়োগপ্রাপ্ত সিনেট তাদের সরকার গঠনে বাধা দেয়। পরে রাজতন্ত্র অবমাননা আইন সংস্কারের আহ্বানের জেরে সাংবিধানিক আদালত দলটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

ভূমজাইথাই পার্টির নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। রাজতন্ত্রপন্থি ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থক শক্তির প্রধান ভরসা হিসেবেই দলটিকে দেখা হচ্ছে।

গত সেপ্টেম্বর থেকে অনুতিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন শিনাওয়াত্রার মন্ত্রিসভায় ছিলেন। কম্বোডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে পায়েতংতার্নকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। অনাস্থা প্রস্তাবের হুমকির মুখে অনুতিন গত ডিসেম্বরে সংসদ ভেঙে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

তার নির্বাচনী প্রচারের মূল বিষয় ছিল অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও জাতীয় নিরাপত্তা। কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষের পর সৃষ্ট জাতীয়তাবাদী আবেগকে তিনি রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগান।

তৃতীয় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফেউ থাই পার্টি কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা-সমর্থিত রাজনৈতিক ধারার উত্তরসূরি। দলটি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল, পরে সামরিক অভ্যুত্থানে উৎখাত হয়।

ফেউ থাই পার্টি অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও নগদ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালিয়েছে। দলটির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন থাকসিনের ভাতিজা ইয়োদচানান ওংসাওয়াত।

নির্বাচনের পাশাপাশি আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট। এতে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে—২০১৭ সালে সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধান পরিবর্তন করা হবে কি না।

গণতন্ত্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মতে, নতুন সংবিধান সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগের মতো অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কমাতে সহায়ক হবে। তবে রক্ষণশীলদের আশঙ্কা, সংবিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ দেশকে নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top