মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২

উচ্ছেদের পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে আসামের বাংলাভাষী মুসলমানরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬:৫১

সংগৃহীত

আসামে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযানের পর ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন বহু বাংলাভাষী মুসলমান পরিবার। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে এই আতঙ্ক আরও তীব্র হয়েছে।

প্রায় দেড় মাস আগে লুটুমারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সরকার প্রায় ছয় হাজার বিঘা জমি পুনরুদ্ধার করে। ওই অভিযানে অন্তত ৩৩০টি পরিবার ঘরছাড়া হয়। উচ্ছেদের পর তারা নগাঁও ও হোজাই জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্লাস্টিকের ছাউনি দেওয়া অস্থায়ী ঘরে বসবাস করছেন।

উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর ঠিকানা বদলে যাওয়ায় আসামে চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআর) প্রক্রিয়ার আওতায় তাদের শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে বিধানসভা কেন্দ্রও পরিবর্তিত হয়েছে, ফলে নতুন জেলার নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে হাজিরা দিতে হচ্ছে তাদের।

উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দা ফাজিলা খাতুন বলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে তাদের নাগরিকত্বই প্রশ্নের মুখে পড়বে। একাধিকবার শুনানিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি এখনও আতঙ্কে রয়েছেন। একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার প্রতিবেশী মিনারা বেগমও, যিনি জানান—সব কাগজপত্র দেওয়ার পরও বারবার শুনানিতে ডাকা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাভাষী মুসলমানদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার একাধিক আক্রমণাত্মক মন্তব্য নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ‘মিঞাঁ’ মুসলমানদের লক্ষ্য করে দেওয়া তাঁর বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উচ্ছেদ ও ভোটার তালিকা সংশোধন—এই দুই প্রক্রিয়া একসঙ্গে চলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও গভীর হয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া কোনোভাবেই নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার উদ্যোগ নয়। হোজাই জেলার ডেপুটি কমিশনার বিদ্যুৎ বিকাশ ভগবতী জানিয়েছেন, যাদের স্থায়ী ঠিকানা নেই বা যাদের ঠিকানা বদলেছে, তারা নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে নতুন ঠিকানা অনুযায়ী ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।

এদিকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন ঘনিয়ে আসায় রাজ্যের বাংলাভাষী মুসলমানদের মধ্যে উৎকণ্ঠা এখনও কাটেনি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top