খামেনির মৃত্যুতে ইরানের নেতৃত্ব কে দেবেন?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৯
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তেহরানে নিজ দপ্তরে অবস্থানকালে এক হামলায় তিনি প্রাণ হারান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনকালে খামেনি হামলার শিকার হন। সরকারি বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ‘কাপুরুষোচিত হামলা’ আখ্যা দিয়ে জানানো হয়, ভোরে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তেহরানসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
খামেনির পর ইরানের নেতৃত্বে কে?
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হলে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অস্থায়ীভাবে তিন সদস্যের একটি পরিষদের হাতে ন্যস্ত হতে পারে। এই পরিষদে থাকবেন রাষ্ট্রপতি, বিচার বিভাগের প্রধান এবং অভিভাবক পরিষদের একজন ধর্মীয় নেতা। তারা অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া তদারকি করবেন।
তেহরান থেকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি-কে কর্তৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল, কোনো হামলা বা গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটলে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেন আলী লারিজানি—এমন নির্দেশনা নাকি খামেনি নিজেই দিয়ে গিয়েছিলেন। দেশের শাসনব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে সামরিক ও প্রশাসনিক উচ্চপদে একাধিক ধাপের উত্তরাধিকার পরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হয়েছিল বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বা তিনি নিহত হলে তার ঘনিষ্ঠ একটি দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় আলী লারিজানি ছাড়াও রয়েছেন পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।