হরমুজ প্রণালী দিয়ে এক লিটার তেলও যাবে না: ইরানের হুঁশিয়ারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৪
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এবার তেলকে নতুন চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটি সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ববাজারে এক লিটার তেলও যেতে দেওয়া হবে না।
তেহরানের দাবি, বর্তমান অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি দুই শত ডলারের বেশি হয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই জলপথকে ঘিরে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল কিংবা তাদের মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো জাহাজ এখন থেকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কৃত্রিমভাবে তেলের দাম কমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরই তেলের বাজার নির্ভর করে এবং এই অঞ্চলের অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররাই দায়ী।
গত আটাশ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের কোনো সমাধান না হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে তেলের দামও অস্থিরভাবে ওঠানামা করছে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। বুধবার ওমান উপকূলের কাছে একটি থাই পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজসহ মোট তিনটি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এমন পরিস্থিতিতেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাহাজগুলোকে এই প্রণালী দিয়ে চলাচল অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাহাজগুলোর যাওয়া উচিত এবং খুব দ্রুত সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার সতর্ক করে বলেছেন, এই অচলাবস্থার কারণে সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাঞ্চলের আফ্রিকার দেশগুলোতে জরুরি ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি মানবিক সহায়তাবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল রাখতে উন্নত দেশগুলোর জোট সাত দেশের গ্রুপ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছে। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান বুয়েগার বলেন, হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে দেওয়া না হলে ইউরোপ ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়তে পারে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা তাদের বত্রিশটি সদস্য দেশের জরুরি মজুত থেকে একযোগে চল্লিশ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে এটি বড় পদক্ষেপ হলেও হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ পুরোপুরি ঠিক হবে না।
এদিকে জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও জাপানও তাদের জাতীয় মজুত থেকে তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, তাদের দেশের প্রায় সত্তর শতাংশ তেলই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে এবং আগামী সোমবার থেকেই এই মজুত বাজারে ছাড়তে শুরু করবে।
সূত্র: আল-জাজিরা
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।