শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

ইরানের পাশাপাশি লেবাননেও হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল, ১০ দিনে নিহত ৬৮৭

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৯

ছবি: সংগৃহীত

দিন যত যাচ্ছে, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত তত ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। দুই সপ্তাহ পেরিয়েছে, কিন্তু যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না; বরং হামলা-পাল্টা হামলার মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।

এদিকে শুধু ইরান নয়, মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ লেবাননেও নতুনভাবে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। গত ২ মার্চ থেকে এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৮৭ জন লেবানন নাগরিক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৯৮ জন শিশু, ৬২ জন নারী এবং ১৮ জন প্যারামেডিক রয়েছেন। একই সময়ে আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭৪ জনে। আহতদের মধ্যে ৩০৪ জন শিশু, ৩২৮ জন নারী এবং ৪৫ জন প্যারামেডিক রয়েছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইরান, উপসাগরীয় অঞ্চল ও বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংক্রান্ত স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

গত ২ মার্চ লেবাননের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইসরায়েল নতুন করে লেবাননে সামরিক অভিযান শুরু করে। ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল ও দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালায় এবং ৩ মার্চ থেকে দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানও চালায়।

১৪ দিন ধরে চলা এই হামলা-পাল্টা হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ লেবাননের ভূখণ্ড দখলের হুমকি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে তাদের হামলা বন্ধ না করে, তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী লেবাননের ভিতরে প্রবেশ করবে এবং তাদের ভূমি দখল করবে।

তিনি আরও বলেন, হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলার কারণে ইসরায়েলের উত্তরের জনপদগুলো বসবাসের জন্য অনুপযোগী হয়ে গেছে। তাই ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে স্থায়ী সামরিক অঞ্চল বা ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে তেল আবিব।

ইসরায়েলি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইতোমধ্যেই লেবাননের অভ্যন্তরে স্থল অভিযানের একটি নীলনকশা অনুমোদন করা হয়েছে। তবে দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের একাংশ পরামর্শ দিচ্ছেন, পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু করার আগে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা উচিত।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top