এবার মর্মান্তিক ঈদযাত্রা: মৃত্যু ও দুর্ঘটনার মিছিল চলছেই
আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩:২৩
ঈদ মানেই আনন্দ। প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে প্রতি বছর বাড়ি ফেরেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ। কিন্তু এবারের ঈদযাত্রা হয়েছে মর্মান্তিক। বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, ঈদের আগে-পরে ১৩ দিনে তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ৯ শতাধিক। গতকাল শুক্রবার রাতেও টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যারা এক পরিবারের বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঈদের ফিরতি যাত্রা এখনো চলছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে কার্যকর সমন্বয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এতজনের মৃত্যু ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনাকে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে দেখা যায়।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি বলছে, ১৪ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ১৩ দিনে ৩০৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০৯ জন নিহত এবং ৯০২ জন আহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ থেকে ২৬ মার্চ রাত ৮টা পর্যন্ত দেশে ৩৪২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, নিহত ২৭৯ জন, আহত দুই হাজারের বেশি।
উভয় সংগঠন নিশ্চিত করছে, এবারের ঈদযাত্রায় মৃত্যুর হার গত বছরের তুলনায় বেশি হবে। রোড সেফটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ঈদে ৩২২ জন নিহত হয়েছিল, আর ২০২৪ সালে ৪৩৭ জন।
১৮ মার্চ বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ৬৫ জন আহত। একই দিনে সদরঘাটে ঢাকা-ইলিশা রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চে ধাক্কা, দুজনের মৃত্যু।ঈদের দিন মধ্যরাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ট্রেন ও বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহত। দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে পদ্মা নদীতে বাস পড়ে ২৬ জনের মৃত্যু। যশোর ও কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু।
নতুন সরকার ছুটি বাড়িয়েও দুর্ঘটনা ও ভোগান্তি কমাতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ছুটি বাড়ানোই পর্যাপ্ত নয়। সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
ড. হাদিউজ্জামান (বুয়েট) এবং ড. আদিল মুহাম্মদ খান (আইপিডি) মনে করেন, ঢাকাকেন্দ্রিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী চাপ এবং যানজটের কারণে দুর্ঘটনা হচ্ছে। এসব সমস্যার সমাধান না হলে ঈদে মৃত্যুর মিছিল থামবে না।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, এই ঈদযাত্রার ব্যর্থতা প্রমাণ করে পুরো সিস্টেম ঠিক না হলে প্রতিটি বছর একই মর্মান্তিক ছবি দেখা যাবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ১৭-২৩ মার্চ ৯২টি দুর্ঘটনায় ১০০ জন নিহত এবং ২১৭ জন আহত। অথচ বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি লেয়ারে চরমভাবে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে। বাসভাড়া, যানজট, চাঁদাবাজি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন মিলিয়ে এটি কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের প্রতিফলন। ঈদযাত্রার মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে হলে অবিলম্বে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।