শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২

মিয়ানমারে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৩২

সংগৃহীত

মিয়ানমারে নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা আরও দৃঢ় করতে পার্লামেন্টারি ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং। এর মাধ্যমে ২০২১ সালে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের প্রায় পাঁচ বছর পর, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে তার ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হলো। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

৬৯ বছর বয়সী এই জেনারেল ২০২১ সালে রক্তক্ষয়ী এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন। সেই ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধে রূপ নেয়।

সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, শীর্ষ জেনারেল থেকে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রক্রিয়া সাম্প্রতিক ‘একপাক্ষিক’ নির্বাচনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। সেনাসমর্থিত দল এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এই প্রক্রিয়াকে গণতন্ত্রের আড়ালে সামরিক শাসন টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে।

ভোট গণনার সরাসরি সম্প্রচারে দেখা গেছে, মিন অং হ্লাইং সহজেই জয়ের প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই পদটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি ২০১১ সাল থেকে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন।

মিন অং হ্লাইং তার উত্তরসূরি হিসেবে ইয়ে উইন ওকে সেনাপ্রধান নিযুক্ত করেছেন। সাবেক এই গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল তার অত্যন্ত অনুগত হিসেবে পরিচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষমতা হস্তান্তর মিন অং হ্লাইংয়ের একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল। লক্ষ্য হলো, নামমাত্র বেসামরিক সরকারের প্রধান হিসেবে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করা এবং আন্তর্জাতিক বৈধতা আদায় করা।

মিয়ানমার বিষয়ক স্বতন্ত্র বিশ্লেষক অং কিয়াও সো বলেন, “সেনাপ্রধানের পদবি বদলে প্রেসিডেন্ট হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা তিনি অনেকদিন ধরে লালন করছিলেন। মনে হচ্ছে তার সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।”

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top