নরসিংদীর রায়পুরায় জেল পলাতক সন্ত্রাসী অপুকে কুপিয়ে হত্যা
নরসিংদী প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:১২
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আহমেদুল কবির অপু (৪২) নামে এক জেল পলাতক সন্ত্রাসীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের বশির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি স’মিল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আহমেদুল কবির অপু মরজাল গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট নয়টি মামলা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলার ঘটনায় বন্দি অবস্থায় পালিয়ে যান অপু। এরপর থেকে তিনি পলাতক থাকলেও নিয়মিত এলাকায় যাতায়াত করতেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় অপু বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় তার সঙ্গে আরও চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি ছিলেন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে স্থানীয়রা বিদ্যালয়সংলগ্ন স’মিলে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহটি অপুর বলে শনাক্ত করেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, রাতের কোনো এক সময় অপুকে ওই স’মিলে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের মাথার বাঁ পাশে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার রাতে স’মিলের পাশের হিন্দুপাড়ায় কীর্তন চলছিল।
পুলিশ মরদেহের পাশ থেকে একটি রক্তাক্ত ছুরি ও নিহতের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।
নিহতের বোন মিতা জানান, সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহের ছবি দেখে তিনি তার ভাইকে শনাক্ত করেন। তবে অপুর সঙ্গে কারও পূর্ববিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, নিহতের মাথায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপুর বিরুদ্ধে হত্যাসহ মোট নয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন এবং আরেকটি মামলায় তিনি পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। এছাড়া দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অপু জেল পলাতক আসামি কি না—তা নিশ্চিত করতে কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।