হালিশহরের গদ্ধ তিন শিশু এখনো জানেন না তাদের বাবা মা আর নেই
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ মার্চ ২০২৬, ১৮:২০
তৃতীয় রমজানের রাতে চট্টগ্রামের হালিশহরের ‘হালিমা মঞ্জিল’ ভবনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণে মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেনের পরিবার। গভীর রাতে সংঘটিত ওই দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে প্রাণ হারান পরিবারের ছয় সদস্য, আর গুরুতর আহত হয় আরও কয়েকজন।
আজ ঈদের দিন—চারদিকে উৎসবের আমেজ, আনন্দ আর উদযাপন। কিন্তু ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এর একটি নীরব কক্ষে যন্ত্রণায় দিন কাটছে ওই পরিবারের বেঁচে থাকা তিন শিশুর—উম্মে আয়মান (১০), ফারহান (৬) ও আয়েশা (৪)।
শরীরজুড়ে দগ্ধ ক্ষত, ব্যান্ডেজে মোড়ানো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ—এই অবস্থায় তাদের জন্য কেনা নতুন ঈদের পোশাকও পড়ে থাকা। আনন্দ-উৎসবের কোনো ছোঁয়া নেই তাদের জীবনে। সবচেয়ে করুণ বিষয়, তারা এখনও জানে না—তাদের বাবা-মা আর বেঁচে নেই।
বারবার বাবা-মায়ের খোঁজ করলে স্বজনরা চোখের জল লুকিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছেন—“তারা পাশের রুমে চিকিৎসা নিচ্ছেন।” নিষ্পাপ শিশুদের কাছে এই নির্মম সত্য প্রকাশ করার সাহস এখনো পাননি কেউ।
শনিবার সকালে সাখাওয়াতের চাচাতো ভাই মো. মিলন জানান, শিশুদের জন্য নতুন জামা কেনা হলেও তাদের শারীরিক অবস্থার কারণে তা পরানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, দুই শিশু অল্পস্বল্প কথা বলতে পারছে, তবে এখনো কেউই তাদের বাবা-মায়ের মৃত্যুর খবর জানে না।
পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, উম্মে আয়মানের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। ফারহানের গুরুতর আঘাত লেগেছে—তার একটি কান অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। অন্যদিকে আয়েশার অবস্থা তুলনামূলক কিছুটা স্থিতিশীল।
উল্লেখ্য, হালিশহরের এইচ ব্লকের ছয়তলা ‘হালিমা মঞ্জিল’-এর তৃতীয় তলায় বিস্ফোরণে মোট ৯ জন দগ্ধ হন। প্রথমে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতরা হলেন—সাখাওয়াত হোসেন (৪৯), তার স্ত্রী নূরজাহান আক্তার রানী (৪০), ছেলে শাওন (১৬), ছোট ভাই সমীর আহমেদ সুমন (৪০), সুমনের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩০) এবং আরেক ভাই শিপন হোসেন (৩০)।
ঈদের আনন্দের দিনে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা যেন স্মরণ করিয়ে দেয়—এক মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে একটি পরিবারের পুরো পৃথিবী।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।