নির্বাচনের আগে একের পর এক টার্গেট কিলিংয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫১
রাজধানীতে একের পর এক টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনায় বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ। এসব ঘটনায় ভাড়াটে খুনিদের ব্যবহার করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুটার ও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। অনেক ঘটনায় এখনো শনাক্ত হয়নি মূল মাস্টারমাইন্ড। জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এমন পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
২০২৫ সালের ২৫ মে রাজধানীর বাড্ডার গুদারাঘাট এলাকায় একেবারে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয় বিএনপি নেতা কামরুল আহসান সাধনকে। ঘটনার আট মাস পেরিয়ে গেলেও এ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এখনো উদ্ধার হয়নি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র।
এর আগে, গত ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবীর একটি দোকানে ঢুকে একই কায়দায় তিন শুটার গুলি করে হত্যা করে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে। র্যাব ভাড়াটে খুনি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম প্রকাশ করলেও দুই মাস পার হলেও তিন শুটারের মধ্যে দুইজন অধরাই রয়ে গেছে। অপর একজনকে স্থানীয় জনতা ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।
১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় শুটার ফয়সাল এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। যদিও যুবলীগ নেতা বাপ্পির নাম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উঠে আসে, তবে পরে পরিবারের পক্ষ থেকে নারাজি দেওয়া হয়।
সবশেষ গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরীবাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুচ্ছাবিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তিন শুটারকে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে ঘটনার নেপথ্যের মূল হোতারা।
রাজধানীতে ধারাবাহিক টার্গেট কিলিং ও ভাড়াটে খুনিদের পুরোপুরি আইনের আওতায় আনতে না পারায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব অপরাধী চক্রের ওপর কঠোর নজরদারি না বাড়ালে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “শুধু যারা গুলি চালাচ্ছে তা নয়, বরং যারা এসব অপরাধের সুবিধাভোগী কিংবা পৃষ্ঠপোষক—তাদের আইনের আওতায় আনতে না পারলে এ ধরনের সহিংসতা থামানো কঠিন। অপরাধীরা যখন পার পেয়ে যায়, তখন সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়ে।”
নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, “এ ধরনের ঘটনা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। জুলাই বিপ্লবের পর দেড় বছর পেরিয়ে গেছে। এখন আর এই অজুহাত দেওয়ার সুযোগ নেই যে বাহিনী সংগঠিত হয়নি। যদি না হয়ে থাকে, তবে তার দায় কার—সেই প্রশ্নও ওঠে।”
তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীর অনেক ইউনিট এখনো পুরোপুরি সুসংগঠিত নয় এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।
তবে ডিএমপির দাবি, দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ অপরাধীকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এসব ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে পড়বে না। ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “গত এক বছরে শুটিংয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত অধিকাংশকেই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীতে ডিএমপির প্রায় ২৫ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।