‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হবে’
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২১
উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নীলফামারীতে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দিয়েছে।
প্রকল্পটি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “রংপুর ও ঢাকার হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। নীলফামারীর এই হাসপাতাল সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
অধ্যাপক ইউনূস আরও জানান, হাসপাতালটি শুধুমাত্র বাংলাদেশি রোগীদের জন্য নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যসেবায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। নেপাল, ভূটানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর রোগীরা এখানে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। ফলে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উদ্ভূত হবে।
প্রকল্পটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। মোট প্রকল্প ব্যয় প্রাক্কলিত ২,৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যার মধ্যে বাংলাদেশের অর্থায়ন ১৭৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং বাকি অংশ চীনের অনুদান।
প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাসপাতালটি নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, অনকোলজি, নিউরোলজি সহ অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসা বিভাগসহ আধুনিক জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও অপারেশন থিয়েটারসহ সেবা দেবে।
হাসপাতাল পরিচালনায় বিপুল কর্মসংস্থানও সৃষ্ট হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজস্ব খাতে প্রায় ৮৯৩ চিকিৎসক, ১,১৯৭ নার্স এবং ১,৪১০ অন্যান্য কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে ১০ তলা নতুন হাসপাতাল ভবন, চিকিৎসক কোয়ার্টার ও ডরমেটরি ভবন, ডুপ্লেক্স ডিরেক্টরস বাংলো এবং অন্যান্য কর্মচারী ও নার্স ডরমেটরি ভবন।
নীলফামারী জেলায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ বসবাস করেন, যার বেশিরভাগ গ্রামীণ ও আধা-শহর এলাকায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী এ জনসংখ্যার জন্য আনুমানিক ৪,৫০০–৬,০০০ শয্যা প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমানে জেলা পর্যায়ে কার্যকর শয্যা সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। নতুন হাসপাতাল স্থাপনের ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় ও যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে এবং সময়মতো জীবনরক্ষাকারী সেবা নিশ্চিত হবে।
এনএফ৭১/এমএ
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।