খাগড়াছড়ি আসনে মুসলিম লীগের প্রার্থীর নির্বাচন বয়কট
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩২
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে খাগড়াছড়ি-২৯৮ নম্বর সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ মনোনীত হারিকেন প্রতীকের প্রার্থী মো. মোস্তফা নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ এবং নিরাপত্তা অবহেলার অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
মো. মোস্তফা বলেন, প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এ অবস্থায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একজন গানম্যান চেয়ে আবেদন করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই খাগড়াছড়িতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। তার দাবি, কিছু ক্ষমতাধর প্রার্থী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহার করে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন।
এ বিষয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক) এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ দায়েরের ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও কোনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ও পক্ষপাতের অভিযোগ তোলেন। একই সময়ে পরবর্তী একটি অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়াকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন।
মো. মোস্তফা জানান, তার অভিযোগে জেলা পরিষদের সদস্য ও কর্মকর্তাদের নাম থাকায় তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রকাশ্যে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার পরও নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।
তার দাবি অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি জেলার মোট ১৮৯টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। কেন্দ্র দখল এবং ফলাফল প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ পরিস্থিতিতে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানান। একইসঙ্গে হারিকেন প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।