চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন আটক
জোবায়ের হোসেন | প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৬
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। জানা গেছে, চলমান ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহারের পরপরই তার আটক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
ইব্রাহিম খোকন বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, র্যাবের একটি দল ইব্রাহিম খোকনকে আটক করে বন্দর থানায় হস্তান্তর করেছে। যাচাই-বাছাই শেষে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অটকের ঘটনায় চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ এড়িয়ে প্রশাসন শ্রমিকদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার পাঁচজন শ্রমিককে গ্রেপ্তার এবং সোমবার ইব্রাহিম খোকনকে আটক করার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বন্দর পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়াসহ চার দফা দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। এ আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন ইব্রাহিম খোকন ও হুমায়ুন কবির।
প্রথমে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ব্যানারে কর্মসূচি পালন করা হলেও পরে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’–এর ব্যানারে আন্দোলন জোরদার করা হয়।
৩১ জানুয়ারি থেকে প্রথমে টানা তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হয়। পরবর্তীতে গত মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মসূচি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ তুলে রোববার থেকে পুনরায় ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হলেও সোমবার সকাল ৮টা থেকে তা প্রত্যাহার করা হয়।
স্কপের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সময় এ ধরনের পদক্ষেপ গভীর সন্দেহের সৃষ্টি করছে। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বন্দর পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহারসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।