প্রেমের টানে শ্রীলঙ্কা থেকে ফেনীর দাগনভূঞায় তরুণী, ইসলাম গ্রহণ করে বিয়ে
মিজানুর রহমান | প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫:১৩
সীমান্তের কাঁটাতার, ভাষা আর সংস্কৃতির ব্যবধান পেরিয়ে ভালোবাসার টানে শ্রীলঙ্কা থেকে ফেনীর দাগনভূঞায় ছুটে এসেছেন এক তরুণী। শুধু তাই নয়, সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি। ঘটনাটি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের আজিজ ফাজিলপুর গ্রামে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাগনভূঞা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াছিনের ছেলে এজাজ আহমেদ শিহাবের সঙ্গে শ্রীলঙ্কান নাগরিক ইশারা মাট্টির পরিচয় হয় ওমানের একটি টেক্সটাইল কোম্পানিতে কাজ করার সময়। সহকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, যা একপর্যায়ে গভীর প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। দীর্ঘ তিন বছর প্রেমের সম্পর্কের পর তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
ওমানে বিয়ের আইনি জটিলতা থাকায় উভয়ে নিজ নিজ দেশে ফিরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ জানুয়ারি শিহাব বাংলাদেশে ফিরে আসেন। পরে প্রেমের টানে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার বাংলাদেশে পা রাখেন ইশারা মাট্টি। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি চলে যান শিহাবের বাড়িতে।
শিহাবের পরিবার ভিনদেশি বধূকে আন্তরিকতার সঙ্গে বরণ করে নেয়। বাড়িতে আসার পর ইশারা মাট্টি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তার নতুন নাম রাখা হয় জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত (২৭)। এরপর পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
স্থানীয়রা জানান, ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষ হয়েও ভালোবাসার টানে জান্নাতের এমন সাহসী সিদ্ধান্ত অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বর্তমানে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আনন্দের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। ভিনদেশি পুত্রবধূ পেয়ে খুশি শিহাবের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরাও।
এ বিষয়ে এজাজ আহমেদ শিহাব বলেন, “ওমানে থাকার সময় আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেখানকার আইনে বিয়ে সম্ভব না হওয়ায় দেশে ফিরে আমরা বিয়ে করেছি। সে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে। দুই পরিবারের সম্মতিতেই এই বিয়ে হয়েছে। সে আমাকে পেয়ে খুবই সুখী।”
শ্রীলঙ্কান তরুণীর বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নবদম্পতিকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই শিহাবের বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।