শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২

দিঘির ঘাটে কুমিরের মুখে কুকুর, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল

সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:২৭

ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটে হজরত খানজাহান (রহ.) এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের মুখে একটি কুকুর পড়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে নানা দাবি উঠলেও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ঘটনাটি কোনোভাবেই পরিকল্পিত নয়; এটি একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা।

ঘটনার পর মাজার এলাকায় দর্শনার্থীদের কৌতূহল বাড়লেও অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যকে যাচাই ছাড়াই সত্য হিসেবে গ্রহণ করছেন। ভাইরাল বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের খাবার হিসেবে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এমনকি পা বেঁধে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। তবে এসব দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

মাজারের খাদেম, নিরাপত্তাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, গত ৮ এপ্রিল বিকেলে একটি অসুস্থ কুকুর এলাকায় কয়েকজনকে কামড় দেয়। পরে স্থানীয়রা সেটিকে তাড়াতে গেলে কুকুরটি দৌড়ে ঘাটের দিকে চলে যায়।

নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদার জানান, কুকুরটি তাকে আঁচড় দিলে তিনি পা ঝাড়া দেন। এতে কুকুরটি পাশের দিঘিতে পড়ে যায়। এরপর দিঘিতে থাকা কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আহত হয়ে তিনি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুকুরটি আগে থেকেই অসুস্থ ও আক্রমণাত্মক ছিল। এটি কয়েকজন মানুষকে কামড়ানোর পাশাপাশি গৃহপালিত প্রাণীকেও আক্রমণ করে। স্থানীয়দের তাড়ায় সেটি দিঘির দিকে গিয়ে পড়ে।

মাজারসংলগ্ন এক দোকানি বলেন, কুকুরটি একটি শিশুকেও কামড় দেয়। পরে পানিতে পড়ে গেলে কুমিরটি সেটিকে ধরে নেয়। তবে এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে অনেক ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসান তপু বলেন, দিঘির কুমিরটি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে কিছুটা অভ্যস্ত হলেও এটি একটি বন্য প্রাণী। সামনে কিছু পড়লে কুমির আক্রমণ করতেই পারে। এমন পরিস্থিতিতে পানিতে নেমে উদ্ধার করতে যাওয়া ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

খাদেমরা জানান, বর্তমানে দিঘিতে একটি মাত্র কুমির রয়েছে। আগের কুমিরগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেলে ২০০৫ সালে ভারত থেকে নতুন কুমির এনে এখানে অবমুক্ত করা হয়।

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি দুর্ঘটনা হলেও সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভাইরাল ভিডিওটি বাস্তব ঘটনার অংশ হলেও এটিকে ঘিরে ছড়ানো অনেক তথ্যই অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন। এটি ছিল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, পরিকল্পিত কোনো ঘটনা নয়।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top