মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধের প্রভাব সামাল দিতে বাড়ছে জ্বালানি মজুত, তবুও স্টেশনে ভিড়

জোবায়ের হোসেন | প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৪

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কাটেনি এখনো। তবে ধারাবাহিকভাবে তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছাতে শুরু করায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছে। মজুত বাড়লেও দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভিড় কমেনি।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলের প্রথম ২০ দিনে ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে মোট ১২টি জাহাজ দেশে এসেছে। এর মধ্যে ৮টি জাহাজে এসেছে ২ লাখ ৭৪ হাজার টন ডিজেল এবং ২টি জাহাজে ৫৩ হাজার টন অকটেন। এছাড়া পৃথক দুটি জাহাজে প্রায় ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল ও ২৫ হাজার টন ফার্নেস তেল আনা হয়েছে। একই সময়ে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ১২ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে।

এই সরবরাহ বাড়ার ফলে রোববার থেকে অনেক ফিলিং স্টেশনে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের সরবরাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির চাপ কিছুটা কমে আসবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে জ্বালানি নিয়ে কোনো বড় সংকট নেই। অকটেনের মজুত ইতোমধ্যে মাসিক চাহিদা ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে মে ও জুন মাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলনির্ভর। চলতি মাসে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মজুত ছিল ১ লাখ ২ হাজার ১৯১ টন, যা দিয়ে প্রায় ৯ দিন চলার মতো সক্ষমতা রয়েছে।

তবে আরও প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার টন ডিজেল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এই চালান যুক্ত হলে মজুত প্রায় দুই সপ্তাহে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ডিজেল বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৯০৪ টন, যেখানে দৈনিক গড় বিক্রি ১১ হাজার ১৬১ টন। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম।

অকটেনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। মাসিক চাহিদা প্রায় ৪৭ হাজার টন হলেও ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মজুত দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ হাজার টনে, যা দিয়ে প্রায় ২৪ দিন চলা সম্ভব।

এর মধ্যে নতুন করে ২৭ হাজার টন অকটেনবাহী একটি জাহাজ এসে খালাস কার্যক্রম শুরু করেছে। এতে মজুত আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অকটেনের দৈনিক গড় বিক্রি বর্তমানে ১ হাজার ১১৫ টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম।

সার্বিকভাবে, সরবরাহ বাড়লেও বাজারে চাপ পুরোপুরি না কমায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় এখনো অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top