লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের দক্ষিণ শিবেরকুটি এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে হামলা, লুটপাট ও পাল্টা মামলার ঘটনায় একটি পরিবার বাড়িছাড়া হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার বাসিন্দা রশিদা বেগম (৩৮) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চলা প্রকাশ্য মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম (৩৫) ও তার সহযোগীরা গত রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে লাঠিসোঁটা নিয়ে রশিদার বাড়ির পাশের দোকানে হামলা চালায়।
এ সময় রশিদাকে চুলের মুঠি ধরে টেনে বের করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার সময় দোকানের মালামাল ও নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় রশিদাকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। একই দিন রাতে রশিদা বেগম সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে শফিকুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, থানায় অভিযোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম রশিদা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ রয়েছে, পরদিন পুলিশ রশিদার অভিযোগ তদন্ত না করে অভিযুক্ত পক্ষের অভিযোগ তদন্তে ঘটনাস্থলে যায় এবং রশিদার বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তবে তল্লাশিতে কিছু না পেয়ে পুলিশ চলে যায়।
এ ঘটনার পর থেকেই পুলিশের ভয়ে রশিদা বেগম ও তার পরিবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে।
মুঠোফোনে রশিদা বেগম জানান, “মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় আমাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। দোকান থেকে মালামাল ও টাকা লুট করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ করলেও সেটি গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো আমাদেরই হয়রানি করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, “উভয় পক্ষই অভিযোগ দিয়েছেন। কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।