শিশু মৃত্যুর ঘটনায় কুষ্টিয়ায় দুই চিকিৎসক পুলিশি হেফাজতে

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:০২

সংগৃহীত

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের পর তাসনিয়া আফরিন (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত একতা প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তাসনিয়া আফরিন কুমারখালী উপজেলার সানপুকুরিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে বাড়ির সিঁড়ি থেকে পড়ে শিশুটির বাম হাত ভেঙে যায়। স্থানীয় চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে কুষ্টিয়া শহরের ওই বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের জন্য সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলে কিছুক্ষণ পরই অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করা হয়। এরপরই শিশুটির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের ভেতরে ভাঙচুর চালান। পরে স্থানীয়রাও এতে যোগ দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাত ১১টা পর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকে। পরে দুই চিকিৎসককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগকারী চিকিৎসক তাহেরুল আল আমীন জানান, সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল। জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পরই সে মৃত্যুবরণ করে, যা সম্ভবত হার্ট অ্যাটাকের কারণে হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আরএমও হোসেন ইমাম বলেন, এটি একটি ‘হাইপার সেনসিটিভ কেস’, যেখানে হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ঘটতে পারে। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের অ্যানেসথেসিয়ার কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পরপরই শিশুটির মৃত্যু হয় এবং এ বিষয়ে চিকিৎসকরাই বিস্তারিত বলতে পারবেন।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন জানান, বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে এবং কোনো গাফিলতির প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি জানান, এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা হয়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top