শখের বশে ২৬ লাখ জাল টাকা ছাপাল মাইলস্টোন কলেজের দুই শিক্ষার্থী!
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৫
রাজধানীতে প্রায় ২৬ লাখ টাকার জাল নোট তৈরির অভিযোগে দুই কলেজশিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। রাজধানীর তুরাগ এলাকার ডলিপাড়ায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল টাকাসহ তাদের আটক করা হয়। তারা রাজধানীর মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আটক দুই শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়েছিল এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিও নিচ্ছিল। বাইরে থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীর পরিচয় থাকলেও গোপনে তারা একটি ফ্ল্যাটে জাল নোট তৈরির কার্যক্রম চালাচ্ছিল।
প্রধান অভিযুক্ত নাইমুল ইসলাম ইশান জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, কোনো পেশাদার জালিয়াত চক্রের কাছ থেকে নয়, বরং ইন্টারনেট থেকেই সে জাল নোট তৈরির কৌশল শিখেছে। বিভিন্ন অনলাইন ভিডিও, অনুসন্ধান পদ্ধতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহায়তা ব্যবহার করে অল্প সময়েই পুরো প্রক্রিয়া আয়ত্ত করে বলে দাবি করেছে সে।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, ল্যাপটপ, প্রিন্টার এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সফটওয়্যার ব্যবহার করে সাধারণ কাগজেই প্রায় আসল নোটের মতো অবয়ব তৈরি করা হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া নোটগুলো এতটাই সূক্ষ্মভাবে তৈরি যে খালি চোখে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল ও নকলের পার্থক্য করা কঠিন।
র্যাব-৩–এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক সনদ বড়ুয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে তুরাগের ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে পাঁচ হাজার পাঁচটি পাঁচশ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ২৫ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা। পাশাপাশি একটি ল্যাপটপ, প্রিন্টার, লেজার ছাপার ডাইস এবং কয়েকটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া নাইমুল ইসলাম ইশান ও তার সহযোগী কেফায়েত উল্লাহর বাড়ি ফেনী জেলায়। তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করছিল বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জিজ্ঞাসাবাদে ইশান দাবি করেছে, শখের বশে এবং ব্যক্তিগত ইচ্ছা পূরণের জন্য মাত্র দুই সপ্তাহ আগে তারা এই কাজ শুরু করেছিল। তবে তদন্তকারীরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। সামনে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনাকাটার ব্যস্ত মৌসুমে বাজারে বিপুল অঙ্কের জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাই ছিল তাদের লক্ষ্য।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা পরিবার ও সমাজের ভূমিকা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। অভিভাবকেরা যখন সন্তানের ফলাফল কিংবা বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্নে ব্যস্ত, তখন ঘরের ভেতরে তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কী শিখছে সেই বিষয়েও নজর রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ডক্টর মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, শুধু কঠোর আইন বা নজরদারি ব্যবস্থা দিয়ে এ ধরনের অপরাধ ঠেকানো কঠিন। তরুণদের প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শেখানো এবং নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীর উত্তরার এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে- প্রযুক্তি যেমন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেয়, তেমনি ভুল হাতে পড়লে সেটিই বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।