ইবি শিক্ষিকা হত্যা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা, প্রধান আসামি গ্রেফতার

ইবি প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৬

ইবি শিক্ষিকা হত্যা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা, প্রধান আসামি গ্রেফতার।  ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (৬ মার্চ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মামলার ১ নম্বর আসামি ফজলুর রহমান বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত অবস্থায় তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং তিনি পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অন্য আসামিদের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ব্যাপারেও তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন শিক্ষক থাকায় বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে ফজলুর রহমানসহ চারজনের নামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় এজাহার দায়ের করেন নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। পরে বিকেলে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন— সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার (বর্তমানে উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার) বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস এবং ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ফজলুর রহমানের কাছ থেকে দুই পাতার একটি লিখিত জবানবন্দি নেয় পুলিশ। ওই জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে নিজ কার্যালয়ে আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরদিন বৃহস্পতিবার নিহত শিক্ষিকার জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। একই দিন বিকেলে তার স্বামী চারজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top