রাজধানীতে ভোজ্যতেলের তীব্র সংকট, দাম বাড়ার শঙ্কা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:০৫
রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে ভোজ্যতেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে। তাদের হিসাবে, দৈনিক চাহিদার মাত্র অতি সামান্য অংশ তেল পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং আবারও দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি দোকানে ভোজ্যতেল পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল কিনতে পারছেন না ক্রেতারা। এতে ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, যে পরিমাণ সয়াবিন ও পাম তেলের চাহিদা রয়েছে, তার তুলনায় মাত্র অতি নগণ্য পরিমাণ তেল তারা পাচ্ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানি কমিশনও কমিয়ে দিয়েছে, এতে তাদের দৈনন্দিন বিক্রিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ঈদের পর থেকেই চাহিদা অনুযায়ী তেল মিল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থাকে তারা সম্ভাব্য নতুন দফা মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।
বর্তমানে বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম আগের তুলনায় লিটারে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খোলা সয়াবিন তেল লিটার প্রতি প্রায় ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা।
বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা তেল কিনতে গিয়ে ভোক্তাদের প্রতি লিটারে অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থানের কথা বললেও বাস্তবে ভোক্তারা বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
একজন বিক্রেতা বলেন, এজেন্টদের কাছ থেকে যে দামে তেল কিনতে হয়, অনেক সময় সেই দামে বিক্রি করতে হয়। এতে লাভ প্রায় থাকে না, বরং অনেক সময় লোকসান গুনতে হয়।
আরেক বিক্রেতা জানান, দোকানে তেল না থাকায় ক্রেতারা অন্য দোকান থেকে সব পণ্য কিনে নিচ্ছেন, ফলে তাদের দোকানের অন্যান্য পণ্যের বিক্রিও কমে গেছে।
জানা গেছে, বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর একটি প্রবণতা রয়েছে বলে অভিযোগ তুলছেন অনেকে। একই সঙ্গে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ২০৭ টাকা এবং পাঁচ লিটার বোতলের দাম এক হাজার কুড়ি টাকা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব বলছে, ভোজ্যতেলের বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করে দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাদের মতে, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে সরবরাহ কমিয়ে সংকট তৈরি করা হয়, এরপরই দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আসে।
ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের অনিয়ম ও কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোক্তারা ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে পারেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।