মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বৈশ্বিক আকাশপথে। সংকটের জেরে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ থেকেও বাতিল হয়েছে এক হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক বা রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়—এর সরাসরি ধাক্কা লাগে জ্বালানি, বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শত শত এয়ারলাইন্স কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে। ফ্লাইট বাতিল থাকলেও পরিচালন ব্যয় বন্ধ না হওয়ায় আর্থিক চাপ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। একই সঙ্গে চাহিদা ও সরবরাহের অসামঞ্জস্যে টিকিট সংকট ও ভাড়া বৃদ্ধির মতো সমস্যাও দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিমান সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। যদিও টানা উত্তেজনার পর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সাময়িক বিরতি দেখা গেছে, তবুও পুরো পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি হলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) মো. মফিজুর রহমান জানান, যেকোনো সংকটে প্রথম ধাক্কা লাগে এভিয়েশন খাতে। দীর্ঘদিন ফ্লাইট বন্ধ থাকলে অনেক এয়ারলাইন্স দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
অন্যদিকে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন চার্জ ও ফি কমানো হলে খাতটি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। পাশাপাশি জেট ফুয়েলের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনারও পরামর্শ দেন তিনি।
দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি পুরোপুরি প্রশমিত হলেও আকাশপথ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের সহায়তা ও নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো। তবে সংকট দীর্ঘায়িত হলে এভিয়েশন খাতের সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।