বৃহঃস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২

চাকরির অনিশ্চয়তায় টিকটকে আয় স্বাভাবিক, বললেন অভিনেত্রী নাজিয়া হক অর্ষা

বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১৯

সংগৃহীত

দেশের বর্তমান নড়বড়ে চাকরির বাজার এবং তরুণ প্রজন্মের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মমুখী হওয়ার বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাজিয়া হক অর্ষা। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তরুণদের টিকটক বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে আয় করাটা মোটেও অস্বাভাবিক নয়।

সম্প্রতি একটি শুটিং সেটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্ষা বলেন, যে দেশে মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ করেও চাকরি পাওয়া নিয়ে এত অনিশ্চয়তা, সেখানে বাচ্চারা যদি টিকটক করে ডলার আয় করে—তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তিনি বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে না দেখে বরং সময়ের বাস্তবতা হিসেবেই দেখছেন।

অর্ষার ভাষায়, যারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে আয় করছে, তারা স্মার্ট এবং উদ্যোগী। তিনি বলেন, “আমি যদি শুধু অন্যকে নকল করেও ডলার আয় করতে পারি, তাহলে কেন করব না?” তার চারপাশের বাস্তবতা তুলে ধরে অভিনেত্রী জানান, এখনকার বেশিরভাগ ছোটরা বই বা সিনেমার চেয়ে মোবাইল গেমস ও টিকটকে বেশি সময় দিচ্ছে। যদিও পড়ালেখার প্রতি এই অনাগ্রহ চিন্তার বিষয়, তবুও তিনি মনে করেন—এই মাধ্যম ব্যবহার করে অনেকেই অল্প বয়সেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, টিকটক বা ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে অনেক তরুণ দেশ-বিদেশে ঘুরছে এবং নিজেদের জীবন গুছিয়ে নিচ্ছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই।

একই সঙ্গে শিক্ষিত বেকারত্ব নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। অর্ষা আক্ষেপ করে বলেন, প্রায়ই সংবাদে দেখা যায়—মাস্টার্স পাস করা তরুণকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘুরে চা কিংবা ফুসকা বিক্রি করতে হচ্ছে। কাজ ছোট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন তরুণ যদি জীবনের ২৫ বছর পড়াশোনায় বিনিয়োগ করার পর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।

অর্ষার মতে, উচ্চশিক্ষিত হয়েও বেকার থাকার চেয়ে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে শিক্ষিত বেকারত্ব ভবিষ্যতে দেশের জন্য এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top