কোট্টু রুটি দেখলেই জ্যাকলিনের ডায়েট উধাও
লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:১৯
কড়া ডায়েট, নিয়মিত শরীরচর্চা আর যোগাভ্যাস—ফিটনেস নিয়ে জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ-এর সচেতনতা নতুন কিছু নয়। শ্রীলঙ্কা থেকে ভারতে আসার পর থেকেই জীবনযাপনে শৃঙ্খলা এনেছেন তিনি। বলিউড অঙ্গনে তার সুঠাম শরীর ও ফিটনেস রুটিন নিয়ে আলোচনা কম হয়নি।
তবে এত নিয়মের মাঝেও একটি খাবারের কাছে হার মানেন এই অভিনেত্রী—সেটি হলো শ্রীলঙ্কার জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড কোট্টু রুটি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জ্যাকলিন জানান, ঝাল-মশলাদার কোট্টু রুটি চোখের সামনে এলে ডায়েটের কথা আর মনে থাকে না। তার ভাষায়,“চিট মিল মানেই কোট্টু রুটি।”
কোট্টু রুটি শ্রীলঙ্কার অন্যতম জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড। অনেকটা যেমন মুম্বাইয়ের পাওভাজি—ঠিক তেমনই সেখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী এই খাবার। রাতের বাজার হোক বা রাস্তার ধারের দোকান, গরম তাওয়ায় ঝনঝন শব্দ তুলে তৈরি হয় কোট্টু রুটি।
এর মূল উপাদান পাতলা রুটি বা পরোটা। রুটিকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নেওয়া হয়। এরপর বড় তাওয়ায় সবজি, ডালনা বা তরকারির ঝোলের সঙ্গে কুচি করা রুটি একসঙ্গে ভাজা হয়। যোগ হয় সুগন্ধি মশলা। পুরো প্রক্রিয়ায় সব উপাদান এমনভাবে মিশে যায় যে আলাদা করে কিছু বোঝার উপায় থাকে না—তৈরি হয় একেবারে আলাদা স্বাদের একটি পদ।
চিকেন দিয়েও বানানো যায় এই খাবার। তবে জ্যাকলিন যেহেতু আমিষ ত্যাগ করেছেন, তাই তার পছন্দ ভেজ কোট্টু রুটি।
অনেকের ধারণা, কোট্টু রুটি মানে বেঁচে যাওয়া রুটি আর তরকারি একসঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি মোটেও তেমন সহজ নয়। এই খাবার তৈরির রয়েছে নির্দিষ্ট কৌশল। তাওয়ার ওপর দ্রুত কুচি করা, একসঙ্গে ভাজা এবং মশলার সঠিক সমন্বয়—সব মিলিয়েই আসে কোট্টু রুটির আসল স্বাদ।
তবে বাড়িতে রুটি বা তরকারি বেঁচে গেলে কোট্টু রুটির পদ্ধতি অনুসরণ করে সেটিকে নতুন রূপ দেওয়া যায়। সামান্য কায়দা জানলেই সাধারণ উপকরণ দিয়েও তৈরি করা সম্ভব মুখরোচক এই পদ।
শুধু শ্রীলঙ্কাই নয়, ভারতের তামিলনাড়ুতেও কোট্টু রুটির ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয় রয়েছে—কোথু পরোটা। এখানেও কুচি করা পরোটা ও মশলাদার সবজি বা মাংস একসঙ্গে তাওয়ায় ভাজা হয়। স্বাদে মিল থাকলেও অঞ্চলভেদে মশলার ব্যবহার ও প্রস্তুত প্রণালীতে কিছু পার্থক্য দেখা যায়।
ফিটনেস-সচেতন জ্যাকলিনের কাছে কোট্টু রুটি শুধু একটি খাবার নয়—এটি শৈশবের স্বাদ আর শ্রীলঙ্কার স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক আবেগ। কড়া ডায়েটের মাঝেও এমন একটি ‘চিট মিল’ হয়তো শরীরের পাশাপাশি মনকেও তৃপ্তি দেয়।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।