ত্রয়োদশ সংসদের ৮৪.৮৩ শতাংশ সদস্য উচ্চ ডিগ্রিধারী: টিআইবি
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪:৩৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৮৪.৮৩ শতাংশ সদস্য স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। তবে নারীর প্রতিনিধিত্ব মাত্র ২.৩৬ শতাংশ, যা ২০০৮ সালের নবম সংসদের অর্ধেক এবং সব সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কম। সংসদকে তরুণ প্রজন্মের সদস্যও প্রাধান্য দিয়েছে; প্রথমবারের জন্য সংসদে যাচ্ছেন ২০৯ জন, যা মোট সংসদ সদস্যের প্রায় ৭০ শতাংশ। এমনকি সম্ভাব্য সংসদ নেতা ও বিরোধী দলীয় নেতাও দুইজনই প্রথমবারের জন্য সংসদে যাচ্ছেন।
টিআইবি সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী সদস্য সবচেয়ে বেশি, ৪৪.৮৩ শতাংশ। এছাড়া ব্যবসায়ী পেশার প্রার্থীরা সংসদে প্রায় ৬০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করছেন, যা দ্বাদশ সংসদের তুলনায় ৫ শতাংশ কম, কিন্তু নবম সংসদের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। শিক্ষক পেশার সংসদ সদস্যের সংখ্যা এইবার সর্বোচ্চ, আর পেশায় রাজনীতিবিদের সংখ্যা সবচেয়ে কম।
অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ৭৯.৪৬ শতাংশ সংসদ সদস্য কোটিপতি। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যে ২৩৬ জন কোটিপতি এবং ১৩ জন শতকোটিপতি। এছাড়া অর্ধেক সংসদ সদস্যের দায় বা ঋণ রয়েছে, যার মোট পরিমাণ ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। দলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বিএনপিতে এই হার ৬২ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামীতে ১৬ শতাংশ।
নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিষয়ে টিআইবি বলেছে, সরকারি কর্মচারী, বিশেষ করে প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সুস্থ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে অনিয়ম ও নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরাও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতা কম দেখিয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। নির্ধারিত প্রচারণা ব্যয়ের সীমাও ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। শীর্ষ দুই দল বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে লঙ্ঘনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি; বিএনপির ক্ষেত্রে এটি ৩২৭.৫ শতাংশ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩১৫.২ শতাংশ, জামায়াত ১৫৯.১ শতাংশ, জাতীয় পার্টি ১২৮.৬ শতাংশ এবং এনপিপি ১৯.০ শতাংশ।
টিআইবি জানিয়েছে, সার্বিকভাবে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক হলেও রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি প্রতিপালনে পূর্ণতা দেখা যায়নি। নির্বাচনের পরও অনেকের মধ্যে “বিজয়ী হতেই হবে” মানসিকতা বিদ্যমান।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।