মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

এসি ব্যবস্থাপনা শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন গণপূর্তের ৮ কর্মকর্তা

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬, ১৪:২৪

এসি । ছবি: সংগৃহীত

সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং বা এসি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের শীর্ষ আট কর্মকর্তা। তাদের সফরের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৫ মার্চ।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ‘হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ট্রেনিং’ শীর্ষক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন। যদিও সফরের তারিখ ইতোমধ্যে তিন দফা পরিবর্তন করা হয়েছে।

যে প্রকল্পের আওতায় এই সফর, সেই প্রকল্পের কাজ এখনো আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। প্রকল্পটির ব্যয় দুই দফা বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা থেকে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

অন্যদিকে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে এসি ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিতে কর্মকর্তারা যাচ্ছেন, সেই ব্যবস্থার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া সফরে অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বা ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নন বলেও জানা গেছে।

নথিপত্রে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এসি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডানহাম–বুশ সফরের সব ব্যয় বহন করবে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী চিলার ও এইচভিএসি ব্যবস্থা সরবরাহ করে থাকে এবং বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে তাদের এসি ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সফর ভবিষ্যতে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা তৈরি করতে পারে এবং সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন— গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) কাজী মো. ফিরোজ হোসেন, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নাজমুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, নির্বাহী স্থপতি সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিসালাত বারি।

২০১৯ সালে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা এবং কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের জুনে। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। তবে সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের অগ্রগতি এখনো সন্তোষজনক নয়।

এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রামের সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ জানান, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর এসি ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই দায়িত্ব পালন করবেন। তাই প্রশিক্ষণটি ভবিষ্যতে কাজে লাগবে বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, উন্নত দেশের প্রশিক্ষণ প্রকৌশলীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি অবসরের পরও এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।

তবে বিষয়টি সম্পর্কে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top