ঢাকায় আইএমএফের সঙ্গে বৈঠক: সংস্কার এজেন্ডায় জোর, ঋণ ছাড়ে নতুন আশাবাদ
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:০৮
স্থগিত থাকা ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় বৈঠক করেছে। প্রতিনিধি দলটি মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।
আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দল দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছে। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কর্মসূচি, অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার মূল বিষয় হচ্ছে নীতিগত সংস্কার। তিনি বলেন, আইএমএফের অর্থায়ন মূলত কার্যকর নীতি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশসহ অনেক দেশই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইএমএফ বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
জানা গেছে, সরকার যদি বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ভর্তুকি হ্রাস এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করার মতো সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারে, তাহলে জুন মাসের মধ্যে আইএমএফ থেকে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের কিস্তি ছাড় পাওয়া যেতে পারে।
এর আগে গত বছরের জুনে একসঙ্গে দুটি কিস্তি ছাড় হলেও নভেম্বরের পর আর কোনো অর্থ ছাড় হয়নি।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মসূচি এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা এগিয়ে চলছে। তিনি স্বীকার করেন, সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।
তিনি ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার এবং জিডিপির তুলনায় কর আহরণের দুর্বলতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। পাশাপাশি কাঠামোগত সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানোর ওপর জোর দেন।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ঋণ মওকুফের মতো উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। স্থগিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান।
আইএমএফের শর্তাবলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু পদক্ষেপ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, বাকিগুলো ধাপে ধাপে চালু করা হবে। এপ্রিলে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে এ বিষয়ে আরও আলোচনা হবে।
অর্থ ছাড়ের বিষয়ে তিনি বলেন, বাজেট প্রস্তুতির পাশাপাশি জুলাই মাসে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
জ্বালানি আমদানি নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, অর্থায়নের কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে এবং আন্তর্জাতিক বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
সরকারের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও রমজানে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখা এবং পোশাক খাতে সময়মতো মজুরি প্রদান সম্ভব হয়েছে।
শেষে তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বর্তমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।