টেকসই উৎপাদন ছাড়া বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকা কঠিন: বাণিজ্যমন্ত্রী
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ মে ২০২৬, ১৬:৩৮
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর এখন আর শুধু পরিবেশগত আলোচনার বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতার অন্যতম নির্ধারক হয়ে উঠেছে। ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা এখন এমন উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতি বেশি আগ্রহী, যা দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পরিচয় দেয়।
রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি পাইলট উদ্যোগের মাধ্যমে রূপান্তর ত্বরান্বিতকরণ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি” কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত পাইলট কার্যক্রম ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে এটি কোনো কল্পনাপ্রসূত ধারণা নয়, বরং বাস্তবসম্মত ও অর্জনযোগ্য একটি রূপান্তর প্রক্রিয়া।
তিনি জানান, এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপ ও বেস্টসেলারের সহযোগিতায় পরিচালিত উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক খাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার এবং সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়নে কার্যকর অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
মন্ত্রী বলেন, সার্কুলার অর্থনীতির মাধ্যমে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা, বর্জ্য কমানো, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য রপ্তানি খাতকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই রূপান্তর সফল করতে সরকার, শিল্পখাত, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, প্রযুক্তি সরবরাহকারী এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এলডিসি উত্তরণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উত্তরণের পর বাংলাদেশ স্বল্পসুদে ঋণ ও কিছু বাণিজ্যিক সুবিধা হারাবে। তাই এখন থেকেই অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব করতে হবে।
তিনি জানান, দেশের লজিস্টিক খরচ এখনো জিডিপির তুলনায় বেশি, যা কমাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা যুক্ত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও দক্ষ প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করতে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, উদ্যোক্তারা এখন একসঙ্গে সব অনুমোদন না পেলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিসকে সত্যিকারের কার্যকর সেবায় রূপান্তর করা হচ্ছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের আর বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে না হয়।
বক্তব্যের শেষে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে দেশের প্রতিটি উৎপাদন খাতকে অবশ্যই টেকসই হতে হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলো পরিবেশ দূষণের দায় বহন করলেও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে উন্নত দেশগুলোরও নেতৃত্ব দেওয়া জরুরি।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।