অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র চলছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৪৯
মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-এর সেক্রেটারি, অভিযোগ করেছেন—সরকার জ্বালানি সংকটের অজুহাতে শিক্ষার্থীদের ওপর অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দিচ্ছে, যা জাতিকে মেধাশূন্য করার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩১ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা অনভিপ্রেত ও অপরিণামদর্শী।
তিনি বলেন, অনলাইননির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য বহুমুখী ক্ষতির কারণ। ইন্টারনেটের উচ্চমূল্যের কারণে দরিদ্র শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ে এবং অনেকেই শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে। এতে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পড়াশোনা ব্যাহত হয়ে নিয়মিত অধ্যয়নের অভ্যাসও নষ্ট হয়।
তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ সময়ে অনলাইন শিক্ষার প্রভাব ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট ২০২২’ প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা বাংলা ও গণিতে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে ময়মনসিংহসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা আরও বেশি পিছিয়ে পড়েছে। ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থার জরিপেও অনলাইন ক্লাস চলাকালে ঝরে পড়া ও শিশু শ্রম বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে।
গোলাম পরওয়ারের মতে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার যে ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো কাটিয়ে ওঠা যায়নি। এর মধ্যে নতুন করে অনলাইন ক্লাস চালু করা শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ক্ষতিকর হবে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সত্যিই জ্বালানি সংকট থাকে, তাহলে অন্য খাত সচল রেখে কেন শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করা হচ্ছে? তিনি এই সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহার করে সব শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।