সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবা ও ভাই-বোনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ আবরার
কুমিল্লা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৪:৫৭
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কালাকচুয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে একটি প্রাইভেটকার সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় ১২ বছর বয়সী আবরার। তবে শুরুতে সে জানতো না, তার পরিবারের কেউ আর বেঁচে নেই। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবরারকে জানানো হয়েছিল পরিবারের সবাই আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু রাতে স্বজনরা ময়নামতি হাইওয়ে থানা থেকে মরদেহ নিতে গেলে বিষয়টি জানতে পারে সে। এরপর থেকেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে আবরার।
নিহতরা হলেন- আবরারের বাবা মুফতি আব্দুল মোমিন (৫২), মা দিল আফরোজ আক্তার (৪৫), বোন লাবিবা (২১) ও ছোট ভাই আরশাদ (৬)। এছাড়া প্রাইভেটকারের চালক জামাল হোসেন (৫০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
স্বজনরা জানান, লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নানা বাড়িতে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন তারা। ফেরার পথেই ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান পরিবারের চার সদস্য।
পরিবারের আরেক সদস্য হুজাইফা (২৫) নানা বাড়িতে থেকে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান। ঈদ শেষে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ফেরার পথেই দুর্ঘটনার শিকার হয় পরিবারটি।
জানা গেছে, নিহতদের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ছাতারপাইয়া গ্রামে। আবরারের বাবা রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি মাদ্রাসায় কর্মরত ছিলেন।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, কালাকচুয়ার একটি হোটেলে খাবারের বিরতি শেষে প্রাইভেটকারটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। এ সময় সড়কে ওঠার মুহূর্তে চট্টগ্রামগামী একটি বাস ধাক্কা দিলে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
আবরারের মামা মাওলানা ফয়সাল আহমেদ অভিযোগ করেন, বেপরোয়া বাস চালনার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মমিন জানান, দুর্ঘটনার ভয়াবহতা দেখে প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল গাড়ির সবাই মারা গেছেন। তবে আবরারের বেঁচে যাওয়া অলৌকিক। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাসটি জব্দ করা হলেও চালক ও সহকারী পলাতক রয়েছে, তাদের আটক করতে অভিযান চলছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।