পদ্মায় বাসডুবিতে রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা সেই নাসিমার করুণ মৃত্যু

সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৬

ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বাসিন্দা নাসিমা বেগম (৪০)। তার সঙ্গে একই দুর্ঘটনায় আরও দুই স্বজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহত নাসিমা পার্বতীপুর উপজেলার ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী। জীবিকার সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকার সাভারে তার ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাসায় যান। তবে দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও কোনো কাজ না পেয়ে ঈদ উপলক্ষে ভাগনির শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে চলে যান।

ঈদ শেষে গত বুধবার বিকেলে নাসিমা, অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও তাদের চার বছরের সন্তান আব্দুর রহমান বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। পথে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে তারা সবাই পানিতে ডুবে যান।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আব্দুল আজিজকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে নিহতদের মরদেহ নিয়ে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ির পথে রওনা দিলে কুষ্টিয়া এলাকায় আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয় লাশবাহী গাড়িটি। তবে এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

স্বজনরা জানান, ২০১৩ সালে রানা প্লাজার ভয়াবহ দুর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা। ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা তিনদিন আটকে থাকার পর তিনি জীবিত উদ্ধার হন। এরপর দীর্ঘদিন গ্রামেই বসবাস করছিলেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে আবার ঢাকায় যান, আর সেখানেই ঘটে জীবনের মর্মান্তিক পরিণতি।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং শোকাহত স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন নিহতের বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের হাতে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা তুলে দেন।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top