বৃহঃস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

রাজমিস্ত্রি থেকে ইউরোপের স্বপ্ন, ভূমধ্যসাগরে অনাহারে মৃত সুনামগঞ্জের যুবক

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৮

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার যুবক মুহিবুর রহমান স্বপ্নে ভর করে ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন। দেশে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং পরিবারের মুখ দেখতে তার আয়েই চলত সংসার। কিন্তু সেই স্বপ্ন কখনো পূরণ হলো না। ভূমধ্যসাগরের মধ্যেই অনাহার ও তৃষ্ণায় তার মৃত্যু হয়েছে।

মুহিবুর রহমান ভাতগাঁও ইউনিয়নের গাগলাজুর গ্রামের বাসিন্দা, মো. নুরুল আমিনের ছেলে। তিন ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে মুহিবুর ছিলেন সবার বড়।

গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো সুনামগঞ্জের ১২ জনের খবর দেশে পৌঁছার পর পরিবার বারবার দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাননি। পরে সোমবার (৩০ মার্চ) একই বোটে থাকা আরেক যুবক মারুফ আহমদ গ্রিস থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুহিবুরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মারুফ বর্তমানে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে রয়েছেন।

মারুফের ভাষ্য অনুযায়ী, বোটে অনাহারে দুর্বল হয়ে মুহিবুর প্রথমে মারা যান। এরপর একে একে অন্যদের মৃত্যু হয়। মৃতদেহগুলো পচতে শুরু করলে জীবিতরা মাঝ সমুদ্রে ফেলে দিতে বাধ্য হন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে দালাল নবীর হোসেনের মাধ্যমে মুহিবুর সহ কয়েকজন যুবক এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে বের হন। শুরুতে লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

মুহিবুরের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। ছোট ভাই হাফিজুর রহমান অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, মা মহিমা বেগম শয্যাশায়ী এবং অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন, বাবা নুরুল আমিন দিশেহারা।

স্থানীয়রা দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং যুবসমাজকে ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশযাত্রা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা জানিয়েছেন, “আমি কিছুক্ষণ আগে এই মর্মান্তিক খবর শুনেছি। খোঁজ নিচ্ছি এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।”



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top