সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

হাত-পাবিহীন সন্তানকে ফেলে দিতে চাইলেন বাবা, আগলে রাখলেন মা

সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪২

ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় জন্ম নিয়েছে শারীরিক ত্রুটিযুক্ত এক নবজাতক, যার দুই পা নেই এবং একটি হাত আংশিক গঠিত। জন্মের পর শিশুটিকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তার বাবা। তবে সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সন্তানকে বুকে নিয়েই নতুন পথচলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মা লিজা আক্তার।

গত বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছেলেশিশুটির জন্ম হয়। শিশুটির পিতা, দিনমজুর আল আমীন, নবজাতককে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে স্ত্রীকে সন্তানটি অন্যত্র দিয়ে দেওয়া বা ফেলে আসার নির্দেশ দেন।

তবে বাবার এমন অমানবিক আচরণের বিপরীতে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রসূতির অস্ত্রোপচারসহ যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় মওকুফ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্রোপচার পরিচালনাকারী চিকিৎসকও তার পারিশ্রমিক নেননি।

নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামের বাসিন্দা লিজা আক্তার জানান, এটি তার তৃতীয় সন্তান। জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। গর্ভাবস্থায় কয়েক দিন আগে বাড়িতে এসে চিকিৎসা নেন এবং নির্ধারিত দিনে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, তার সন্তান স্বাভাবিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে জন্মায়নি বলেই স্বামী তাকে ফেলে দিতে বলেছেন। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই সন্তানকে পরিত্যাগ করবেন না। স্বামী না রাখলেও সন্তানকে নিয়েই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জীবিত থাকা পর্যন্ত কাজ করে সন্তানের ভরণপোষণ করবেন। তবে নিজের মৃত্যুর পর সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা তাকে কষ্ট দিচ্ছে। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি এগিয়ে এলে সন্তানের ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও নিরাপদ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দরিদ্র এই মা ও নবজাতকের অবস্থা বিবেচনায় সব ধরনের খরচ মওকুফ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকও মানবিক কারণে কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি।

অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক জানান, জিনগত কারণ বা গর্ভকালীন পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে এ ধরনের শারীরিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। শিশুটির এমন অবস্থায় তারা মর্মাহত এবং মানবিক দিক বিবেচনায় নিজ দায়িত্ব থেকেই সহায়তা করেছেন।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top