প্রেম আড়ালেই স্বস্তি! অনলাইনে সম্পর্ক প্রকাশে অনীহা তরুণীদের

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫২

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবনের প্রায় প্রতিটি মুহূর্ত তুলে ধরার এই সময়ে প্রেম বা দাম্পত্য সম্পর্ক প্রকাশ্যে আনার বিষয়ে দ্বিধা বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণী ও নারীদের মধ্যে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে বিষয়টি এতটাই আলোচনায় এসেছে যে, ব্রিটিশ ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগ পর্যন্ত প্রশ্ন তুলেছে—
“প্রেমিক থাকা কি এখন লজ্জার বিষয়?”

ইনস্টাগ্রাম কিংবা টিকটকে এখন অনেকেই সঙ্গীর মুখ প্রকাশ না করে হাত ধরা, কফির কাপ কিংবা ছায়ার মতো ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি শেয়ার করছেন। এই প্রবণতাকে বলা হচ্ছে ‘সফট লঞ্চ’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা, নিজস্ব ব্র্যান্ডিং বজায় রাখা এবং আত্মনির্ভরতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা।

৩৩ হাজার অনুসারী থাকা ইনফ্লুয়েন্সার তাওয়ানা মুসভাবুরি জানান, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রেমিকের পরিচয় আড়াল রাখেন।
তার ভাষায়, “আমি চাই মানুষ আমাকে একজন শক্তিশালী ও স্বনির্ভর নারী হিসেবে দেখুক—যার সাফল্যে অন্য কারও অবদান নেই।”

ভোগ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ভাইরাল নিবন্ধে লেখক শঁতে জোসেফ উল্লেখ করেন, নারীদের সম্পর্ক নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন এসেছে।
অনেকে এখন সঙ্গী থাকার সামাজিক স্বীকৃতি উপভোগ করতে চাইলেও, ‘বয়ফ্রেন্ড-পাগল’ তকমা চান না। তার মতে, প্রেমিক থাকা এখন আর কোনো অর্জন হিসেবে দেখা হয় না; বরং এটি নারীর স্বাধীনতার পথে বাধা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

দক্ষিণ লন্ডনের কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্টেফানি ইয়েবোয়াহ জানান, প্রেমিকের ছবি পোস্ট করার পর তার প্রায় এক হাজার ফলোয়ার কমে যায়।
তিনি বলেন, “মানুষ আমাকে আগের মতো অনুসরণ করতে চায়নি, কারণ আমার কনটেন্টে ব্যক্তিগত জীবন ঢুকে পড়েছিল।”

কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষক ড. জিলিয়ান ব্রুকস বলেন, “ইনফ্লুয়েন্সাররা একটি নির্দিষ্ট নান্দনিকতা বা ব্র্যান্ড বিক্রি করেন। সেই সীমা ভাঙলে দর্শক বিভ্রান্ত হয়।”

ইনফ্লুয়েন্সার নন—এমন নারীরাও সম্পর্ক গোপন রাখতে আগ্রহী। ২৫ বছর বয়সী মিল্লি বলেন, “আমি চাই না মানুষ ভাবুক, আমি আমার বাগদত্তের ওপর নির্ভরশীল।”

২০ বছর বয়সী শার্লট মনে করেন, “সম্পর্ক আরও ব্যক্তিগত হওয়া উচিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দিলে নিখুঁত সম্পর্ক দেখানোর চাপ তৈরি হয়।”

২১ বছর বয়সী আথেরা জানান, কু-নজরের ভয়ে তার অনেক বন্ধু সম্পর্কের ছবি প্রকাশ করেন না।
বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ঈর্ষাপূর্ণ দৃষ্টিকে ‘ইভিল আই’ বলা হয়, যা ক্ষতির কারণ হতে পারে—এমন বিশ্বাসও প্রচলিত।

মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির সমাজমনোবিজ্ঞানী ড. গোয়েনডোলিন সাইডম্যান বলেন, “মানুষ এখন বুঝতে পারছে, অনলাইনে একবার কিছু পোস্ট করলে তা চিরস্থায়ী হয়ে যায়। তাই ব্যক্তিগত বিষয়ে তারা আগের চেয়ে বেশি সতর্ক।”

সূত্র: বিবিসি



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top