যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ, ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১২
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা ফেরতযোগ্য জামানত জমা দিতে হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে। নতুন এই তালিকায় বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশের নাম রয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও কনস্যুলার অফিসার চাইলে তার ওপর ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। বন্ডের পরিমাণ নির্ধারিত হবে তিন ধাপে—৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ভিসা ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এই অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন।
নির্ধারিত বন্ডের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Pay.gov–এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া কোনো অর্থ জমা না দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের সতর্ক করা হয়েছে।
কেন চালু হলো ভিসা বন্ড
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি পাইলট প্রোগ্রাম। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করেন (ওভারস্টে), তাদের নিরুৎসাহিত করা। যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ওভারস্টের হার তুলনামূলক বেশি, সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ফেরতযোগ্য জামানত
ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে রাখা হবে না। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে আবেদনকারী তার জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাবেন। যেমন—
অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে
ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে প্রবেশের অনুমতি না পেলে
তবে কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন বা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন (যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা এসাইলাম), তাহলে ওই জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।
নির্দিষ্ট তিন বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ বাধ্যতামূলক
ভিসা বন্ড প্রদানকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো—
বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS)
জন এফ. কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK)
ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)
এই নির্ধারিত বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা বের হলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করবে।
তালিকায় যেসব দেশ
বাংলাদেশ ছাড়াও তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডাসহ আরও কয়েকটি দেশ। দেশভেদে ভিসা বন্ড কার্যকরের তারিখ ভিন্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন নিয়মের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ভিসা বন্ড কী
ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা, যা ভিসার শর্ত—বিশেষ করে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগ—মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক, শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। তবে ভিসা ওভারস্টে রোধে ফেরতযোগ্য জামানতের মতো ব্যবস্থা খুব কম দেশই চালু করেছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।