বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায়, সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার জামানত বাধ্যতামূলক
স্টাফ রিপোর্টার । ঢাকা | প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নতুন করে বাংলাদেশকে ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত প্রদানকারী দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। নতুন নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কোনো আবেদনকারী ভিসার জন্য যোগ্য হলেও কনস্যুলার অফিসার চাইলে তাঁর ওপর এই বন্ডের শর্তারোপ করতে পারবেন। মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে ওভারস্টে বা অনুমোদিত সময়ের বাইরে অবস্থানের প্রবণতা কমানো।
ভিসা বন্ডের আওতায় থাকা বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দর ব্যবহার বাধ্যতামূলক:
-
বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS)
-
নিউইয়র্ক জন এফ. কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK)
-
ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)
এই বিমানবন্দরগুলো ছাড়া অন্য কোনো পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে এবং জামানতের অর্থ ফেরত পাওয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে তিনটি ধাপে— ৫,০০০, ১০,০০০ এবং ১৫,০০০ মার্কিন ডলার, যা আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ওপর ভিত্তি করে কনস্যুলার অফিসার ঠিক করবেন।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, জামানত ফেরতযোগ্য অর্থ। অনুমোদিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা প্রাপ্ত হলেও ভ্রমণ না করলে বা বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পেলে এই অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে। তবে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান বা ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের চেষ্টা করলে জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হবে।
বন্ডের অর্থ ‘Pay.gov’ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশ এই তালিকায় রয়েছে, যার মধ্যে আলজেরিয়া, কিউবা, নেপাল ও ভুটানও অন্তর্ভুক্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভ্রমণ ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।